অভিনব দেও পরিচালিত ‘ব্রাউন’ সিরিজে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করলেন করিশ্মা কাপুর। সিরিজ থেকে অভিনয় জীবন— নানা কথা শেয়ার করলেন আড্ডায়।
অভিনব দেও পরিচালিত ‘ব্রাউন’ সিরিজে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করলেন করিশ্মা কাপুর। সিরিজ থেকে অভিনয় জীবন— নানা কথা শেয়ার করলেন আড্ডায়।
•. আপনি বেছে কাজ করেন। এই সিরিজটি করতে রাজি হলেন কেন?
•• আমার মনে হয়, রীতা ব্রাউন ব্যতিক্রমী চরিত্র। মানসিকভাবে আঘাত পাওয়া সাধারণ পুলিশ অফিসার সে নয়। ওর ভিতরের অনুভূতিগুলি খুব তীব্র, যা অন্যদের থেকে আলাদা। এ কারণেই এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম, যা আগে কখনো করিনি।
• সিরিজে কোনো কঠিন দৃশ্য ছিল?
•• অধিকাংশ দৃশ্যই কঠিন। কলকাতায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শ্যুটিং হয়েছে। আমাকে একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে হয়েছে চরিত্রের প্রয়োজনে। ফলে সেই ম্যানারিজমটা মেনটেন করা অবশ্যই কঠিন ছিল। রীতার চরিত্র আপনাকে ভাবাবে, কাঁদাবে এবং একই সঙ্গে হাসাবে।
• আপনার মতে ব্রাউনের কোন বিষয়টি দর্শকদের সবচেয়ে বেশি অবাক করবে?
•• আমার জীবনের সবচেয়ে অকপট, অসহায়, বাস্তব রূপে দেখবেন দর্শক। রীতা ব্রাউন কোন যন্ত্রণার মধ্যে কাটাচ্ছে, তা বুঝবেন। তাঁদের প্রতিক্রিয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
• মূলধারার সিনেমার তুলনায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অভিনেত্রীরা কি বেশি ঝুঁকি নিতে পারেন?
•• (হাসি) অবশ্যই। ওটিটিতে আরও বেশি পরীক্ষামূলক প্রজেক্ট তৈরি হচ্ছে। তবে অস্বীকার করব না, সিনেমার নিজস্ব একটা জাদু রয়েছে। দুটোই একে অপরের থেকে বেশ আলাদা। আর দু’টি জায়গাই শৈল্পিকভাবে বেশ সন্তোষজনক।
• আপনি বছরের পর বছর ধরে নিজেকে ক্রমাগত নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।
•• আমি আমার নিজের পথে চলি। যেটা ঠিক মনে হয় করি। তাই কর্মজীবনে কখনো কোনো কিছুর পরিকল্পনা করিনি। আমার কাজ করতে ইচ্ছে করলে কাজ করব, আর ইচ্ছে না করলে করবই না।
• অভিনয় জীবনে প্রাপ্তি কী?
•• আমি ভাগ্যবান যে দর্শক আমার প্রত্যেকটি চরিত্রের কদর করেছেন। একজন শিল্পী হিসাবে দর্শককে হাসাতে, কাঁদাতে পেরেছি, এর থেকে বেশি আর কী-ই বা চাইতে পারি!
• ২০ বছরের তরুণী করিশ্মার সঙ্গে যদি মন খুলে কথা বলতে পারতেন, কী বলতেন?
•• আমি বলব, যা করছো, সেটাই করে যাও। সিনেমার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলাম। কখনো নিজের সঙ্গে আপস করিনি। এই জিনিসগুলিই আমাকে একজন পেশাদার অভিনেতা হিসাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। ৩৫ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছি। এখনও মনে হয়, গতকালই তো শুরু করলাম। প্রতিদিনই কিছু না কিছু শিখছি। উন্নতি করছি। আর এটাই মূল্যবান।
• ১৯৯০-এর দশক থেকে বলিউড আমূল বদলে গিয়েছে...
•• আমরা এমন এক সময়ে কাজ করেছি যখন সিনেমা তৈরি হত সহজাত প্রবৃত্তি আর আবেগ দিয়ে। আজকাল অভিনেতাদের একাধিক ওয়ার্কশপ হয়, নাচের মহড়া— সব হয়। সেটে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে ওঠে তারা। সেই সময় আমাদের জন্য এত কিছু ছিল না। সেটে গিয়েই সব শিখতাম। আর নিজেদের উজার করে দিতাম। এটাই বড়ো ফারাক।
আরাত্রিকা চক্রবর্তী