


প্রয়াত বন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণায় বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ।
• ধর্মেন্দ্র নেই এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য। এমন হাসিখুশি বন্ধু পাওয়া দুর্লভ। ওর মতো পজিটিভ মনের মানুষ আমি কম দেখেছি। ধর্মেন্দ্র শুধু একজন উজ্জ্বল অভিনেতা ছিল, তাই নয়। বরং চলচ্চিত্র জগতে আজকের অনেক সুপারস্টারকে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সেসব কথা প্রকাশ্যে বলত না। আমরা অনেক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছি। মনে পড়ছে ‘ঘর কা চিরাগ’-এর শ্যুটিংয়ের সময় ধর্মেন্দ্র এবং আমি প্রায়শই সেট থেকে বেরিয়ে বাইরে পার্টি করতাম। বাকিরা আমাদের খুঁজত। খুব কম লোকই জানত আমরা কোথায় আছি। রাজ কাপুর, ধর্মেন্দ্র, রাজেন্দ্র কুমার, জিতেন্দ্র এবং আমি— এই কয়েকজন আড্ডায় হাজির হলে সোনালী মুহূর্ত তৈরি হতো।
আর একটা গল্প বলি। সে অনেক বছর আগের কথা। ধর্মেন্দ্র আমার বাড়িতে টানা তিনদিন ছিল। কেন জানেন? একটি পার্টিতে আমরা এত মদ্যপান করেছিলাম, ওর তিনদিন ওঠার ক্ষমতা ছিল না। সানি তখন ছোট, যমুনাবাইতে পড়াশোনা করত। ও প্রতিদিন দেখতে আসত, ধর্মেন্দ্র ঘুম থেকে উঠেছে কি না। সে সময় সম্ভবত ‘জীবন মৃত্যু’ ছবির শ্যুটিং করছিল। সেই ছবির লোকজন আমার বাড়িতে আসত ধর্মেন্দ্রকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য। সে এক কাণ্ড!
ধর্মেন্দ্রর অসুস্থতার কথা শুনে ওর পরিবারের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখেছিলাম। শেষের দিকে অনেক কবিতা লিখত আমার বন্ধু। ধীরে ধীরে লেখার অভ্যেস তৈরি হয়েছিল। আমি তো ওকে পার্টিতে হুল্লোড় করতে দেখে অভ্যস্ত। যখন এত ভালো লিখতে শুরু করল, ওর এক অন্য রূপের পরিচয় পেয়েছিলাম।
আজ সবই স্মৃতি হয়ে গেল...।