আপনার অন্য অ্যাকশন ছবিগুলোর থেকে ‘সিকান্দর’ কতটা আলাদা?
আপনার অন্য অ্যাকশন ছবিগুলোর থেকে ‘সিকান্দর’ কতটা আলাদা?
আমার মতে একটা ছবির ক্ষেত্রে আবেগই প্রধান। এখানে অ্যাকশনের সঙ্গে ইমোশন জুড়ে রয়েছে। আক্কি (অক্ষয় কুমার), আমির (খান) এদের ছবিতে আবেগ ভরপুর থাকে। এখানেও অ্যাকশন আর রোমান্স একসঙ্গে পাবেন।
সংলাপে আপনি ‘এমএলএ’ এবং ‘এমপি’ হওয়ার কথা বলেছেন। বাস্তবে কি রাজনীতিতে আসবেন?
প্রশাসনিক কাজ আমার দ্বারা হবে না। অভিনয়ই আমি খুব ভালো করতে পারি না (হাসি), আবার রাজনীতি!
আপনাকে ‘সেল্ফ মেড’ অভিনেতা বলা হয়। নিজেও সেটা মনে করেন?
দেখুন, এই বিশ্বে কেউই ‘সেল্ফ মেড’ নয়। আমি একথায় বিশ্বাস করি না। ‘টিম ওয়ার্ক’ ছাড়া কিছু সম্ভব নয়। আমার বাবা একদিন ইন্দোর থেকে মুম্বইতে না এলে চাষবাস করতেন। আমার দাদু (আব্দুল রশিদ) দেশের অন্যতম বড় শিল্পী ছিলেন। উনি প্রযোজনা, পরিচালনাও করেছেন। খুব ভালো অভিনেতাও ছিলেন। দাদুই বাবাকে প্রথম সুযোগ দিয়েছিলেন। এখন ‘নেপোটিজম’-এর মতো নতুন শব্দ মানুষ শিখেছে, তবে এই শব্দটা আমি পছন্দ করি (সশব্দে হেসে)।
বলিউডের তুলনায় দক্ষিণী ছবির ব্যবসা এখন ভালো হচ্ছে, আপনার কী মত?
প্রযুক্তিগত ভাবে দক্ষিণী পরিচালকরা এগিয়ে। আর ছবির সঙ্গে ওঁরা ইমোশনালি যুক্ত থাকেন। এদিক-ওদিক থেকে গল্প ওঁরা নেন না। নিজেদের গল্প লেখেন। আমি বিশ্বাস করি, ছবি ভালো হলে তা চলবে। ভালো না হলে, চলবে না। অনেক সময় আবার ছবি ভালো হয়, কিন্তু ভাগ্য খারাপ থাকায় ছবি চলে না। আবার ভাগ্য ভালো থাকলে, বাজে ছবিও চলবে। তবে সব জায়গার মন্ত্র একটাই, ভালো ছবি তৈরি হলে চলবে। ছবিতে রোমান্স, ইমোশন, অ্যাকশন মিলিয়ে প্যাকেজ দিতে হবে।
পরিচালক চন্দ্র বারোট একবার বলেছিলেন, আপনার কাছে আজও ১০ টাকার মূল্য অনেকখানি। সত্যি?
দেখুন, আমি অত বুঝি না। তবে আমাদের অর্থের প্রয়োজন আছে। ছোটবেলায় নানা ভাবে টাকা রোজগার করতাম। হানি আন্টিকে (ইরানি) চুমু খেলে দশ টাকা পেতাম। এভাবে একশো টাকা আয় হতো আমার (সজোরে হেসে)। স্কুলে যখন ডোনেশন আনার জন্য ফর্ম দেওয়া হতো, আমি সেইসব ফর্ম জেরক্স করে সকলের থেকে টাকা আদায় করতাম। রাজেন্দ্র স্যার (কুমার), দত্ত সাব (সুনীল দত্ত)— যাঁরাই বাড়িতে আসতেন, ডোনেশন হিসেবে ৫০ বা ১০০ টাকা দিতেন। ১৫ দিনে ৩০০-৪০০ টাকা আমার পকেটে চলে আসত। কিন্তু কিছু দিন পর বুঝতে পারি যে এটা ঠিক হচ্ছে না। তখন থেকেই আমার দানকর্ম শুরু হয়।
ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে কি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন?
ঈশ্বর, আল্লা আছেন। আমার যত দিনের আয়ু লেখা আছে, ততদিনই বাঁচব। এই ঘটনার ফলে অনেক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হয়, শুধুমাত্র এটাই সমস্যা! এখন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে শ্যুটিং, আর শ্যুটিং থেকে গ্যালাক্সি— এটাই আমার জীবন হয়ে গিয়েছে।
পাকিস্তানি অভিনেত্রীরা আপনার সঙ্গে কাজ করতে চান। এব্যাপারে কী বলবেন?
সরকার থেকে অনুমতি নিন, অথবা ওঁদের জন্য ভিসার ব্যবস্থা করা হোক। আর তা না হলে ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হোক (সশব্দে হেসে)।
এই ছবিতে রশ্মিকার (মন্দানা) সঙ্গে আপনার বয়সের ব্যবধান নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আপনি বিষয়টা কীভাবে দেখেন?
কম বয়সি অভিনেত্রীদের বড় প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার জন্য আমি কাজ করি। আমি যদি অনন্যা (পাণ্ডে) বা জাহ্নবীর (কাপুর) সঙ্গে কাজ করতে যাই, মানুষ তা নিয়ে সমালোচনা করবেন। হয়তো আমার অসুবিধে হবে। তবুও আমি ওদের সঙ্গে কাজ করব।
অ্যাকশনের পাশাপাশি এখন কোন ঘরানার ছবিতে কাজ করতে আপনি বেশি আগ্রহী?
‘নো এন্ট্রি’ বা ‘রেডি’-র মতো কমেডি ছবির প্রস্তাব এখন পাচ্ছি না। রাজকুমার সন্তোষীর ‘আন্দাজ আপনা আপনা’-র সিক্যুয়েল এলে দারুণ হবে। দু’টো ছবি আমার হাতে আছে। দেখি কোনটা আগে করি।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই