Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ফাইনালের সেই গোল ভুলিনি

১৯৯৪ ডুরান্ড কাপ ফাইনাল! তাও আবার বড়ো ম্যাচ। ড্রেসিং-রুমে রীতিমতো যুদ্ধের পরিস্থিতি। একটাই আকুতি, জিততে হবে। কাগজে-কলমে ইস্ট বেঙ্গল সেবার ভয়ংকর টিম।

ফাইনালের সেই গোল ভুলিনি
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

জো পল আনচেরি: ১৯৯৪ ডুরান্ড কাপ ফাইনাল! তাও আবার বড়ো ম্যাচ। ড্রেসিং-রুমে রীতিমতো যুদ্ধের পরিস্থিতি। একটাই আকুতি, জিততে হবে। কাগজে-কলমে ইস্ট বেঙ্গল সেবার ভয়ংকর টিম। কৃশানু দে, বিকাশ পাঁজি, কার্লটন চ্যাপম্যান, অতনু ভট্টাচার্য, তুষারদা আরও কত নাম। আক্রমণে বাইচুং ভুটিয়া। সবাই ধরেই নিয়েছিল দিল্লি থেকে ট্রফি এবার লাল-হলুদের ঘরেই উঠছে। আর সেটাই আমাদের তাতিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে ডুরান্ড জয় মোহন বাগানের। ৭৬ মিনিটে একমাত্র গোলদাতা এই অধম। সেদিনের আম্বেদকর স্টেডিয়াম এক অখ্যাত কেরালাইট ফুটবলারের কান্নার সাক্ষী। আবেগে, আনন্দে হাউহাউ করে কেঁদেছিলাম ম্যাচের পর। দু’হাতে জড়িয়ে আগলে রেখেছিল বিজু ভাই।

Advertisement

সেবারই প্রথম সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে চাপাই। ফুটবলের মক্কায় প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চ্যালেঞ্জ। যাই হোক, ম্যাচের কথায় ফিরি। সত্যদা, বার্নার্ড, বিজয়ন, আকিল আনসারি, গুনবীর সিংদের চোয়াল শক্ত। একটাই প্রতিজ্ঞা, ম্যাচ হারব না। উত্তেজনার পারদ চড়ে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে। ইলিয়াস পাশা ও বিজয়নকে মার্চিং অর্ডার দেন রেফারি। সময় ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু মন যেন বলছিল, আজ ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হবে। ৭৬ মিনিটে সেই ম্যাজিক মুভমেন্ট। ইস্ট বেঙ্গল গোলকিপার অতনু দা’কে হার মানিয়ে জাল কাঁপাতেই দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়াম গর্জে উঠল। শেষ বাঁশি বাজার পরেও যেন ঘোর কাটেনি। কারা যেন কোলে চাপিয়ে পৌঁছে দিয়েছিল সাজঘরে। অবাক হওয়ার তখনও বাকি। কাপ জিতে হাওড়া স্টেশনে ট্রেন ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ! হাজার হাজার সমর্থক স্টেশনে হাজির। ট্রফি নিয়ে সেখানেই একপ্রস্ত সেলিব্রেশন। আবেগের জোয়ারে ভেসে তাঁবুতে ফেরা। মনে হচ্ছিল, আহা এই তো জীবন। এই কারণেই কলকাতায় আসা। ম্যারাথন কেরিয়ারে ১৯৯৪ সালের ডুরান্ড কাপের স্মৃতি এখনও টাটকা। নিছক ম্যাচ নয়, জো পল আনচেরি হয়ে ওঠার সলতে পাকানোর গল্প। কোনো সন্দেহ নেই, আমার ফুটবল কেরিয়ারের অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে এই ম্যাচ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ