Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

যোগ্যতার তুলনায় বেশি পেয়েছি

‘হোমবাউন্ড’ ছবির পর চর্চায় বিশাল জেঠওয়া। নীরজ ঘেওয়ান পরিচালিত ছবিটি এবছর ভারতের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে অস্কারে পাঠানো হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি অভিনেতা।

যোগ্যতার তুলনায় বেশি পেয়েছি
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অস্কারে আপনার ছবি গেল, কেমন অনুভূতি?
ভীষণই আনন্দ হচ্ছে। সবকিছু উপরওয়ালার উপর ছেড়ে দিয়েছি। আমি চাই সেরা ছবির হাতে অস্কার উঠুক। আর আমি এটাও চাই যে, আমাদের ছবি যেন সেরা হয়। 
আপনার চরিত্র ‘চন্দন কুমার’-এর সঙ্গে নিজেকে রিলেট করতে পেরেছেন?
চন্দন কুমার তার জার্নির মাধ্যমে নিজেকে গ্রহণ করতে পেরেছিল। এই ছবির পর আমি নিজেকে ভালোভাবে গ্রহণ করতে শিখেছি। নিজের ভালোগুলোর পাশাপাশি খামতিগুলোকে আপন করতে শিখেছি। বলিউডে সকলে ইংরেজিতে কথা বলেন। এখানে আদবকায়দা, খাওয়াদাওয়া সবকিছুই ভীষণ আধুনিক। আমি বলিউডের ধারার চাইতে একদম আলাদা। আমার ইংরেজি ঝরঝরে নয়, আগে এনিয়ে ভয়ে থাকতাম। বলিউডি আদবকায়দা জানতাম না বলে লজ্জা পেতাম। এখন আমার নিজস্ব সত্তা গ্রহণ করতে শিখেছি। আমি আমার জার্নি নিয়ে গর্বিত। 
স্ট্রাগলের দিনগুলো কেমন ছিল?
কম বয়সে আমি বাবাকে হারিয়েছি। মা একাই আমাদের সব ভাই-বোনদের বড় করেছেন। তাই আমার থেকে বেশি মায়ের জন্য সময়টা কঠিন ছিল। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমাদের বড় করে তুলেছেন। ছোট থেকেই আমি কাজ শুরু করেছিলাম। ছেলে হওয়ায় অজান্তেই পরিবারের দায়িত্ব আমার কাঁধে চলে এসেছিল। ২৫-২৬ বছর বয়সে এসে আমি উপলব্ধি করি যে আর পাঁচজন শিশুর মতো আমার ছেলেবেলাটা স্বাভাবিক ছিল না। ছেলেবেলার হুটোপুটি, পড়াশোনা, যৌবনের উন্মাদনা সবকিছু থেকেই আমি বঞ্চিত ছিলাম। তবে মায়ের মানসিক শক্তির জোরে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে। প্রতি জন্মেই মাকে আমার মা হিসেবে চাই। 
‘হোমবাউন্ড’-এ আপনার দুই সহঅভিনেতা ঈশান খট্টর এবং জাহ্নবী কাপুর ফিল্মি পরিবারের মানুষ। বহিরাগত হিসেবে সেটে কি কোনও ভেদাভেদ অনুভব করেছেন?
ঈশান এবং জাহ্নবী কখনও আমার সঙ্গে বহিরাগতর মতো ব্যবহার করেনি। ওরা এখন আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছে। তবে ওরা ছাড়া অনেক সময় অনেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আমি বলিউডে বহিরাগত। এতে আমার খারাপ লাগে না। আমাকে একবার অভিনেত্রী জয়া ভট্টাচার্য বলেছিলেন যে, ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা নিজেকেই তৈরি করতে হয়। এখন সেই কাজটাই করছি।
কোনও প্রজেক্টে সই করার আগে কোন বিষয়টি মূলত দেখেন?
দু-তিনটে বিষয় দেখি। সবার প্রথমে দেখি নিজের আর্থিক পরিস্থিতি। যদি দেখি আমার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ভালো আছে, তখন আমি একটু বেছে কাজ করি। আবার অনেক সময় আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হলে অপচ্ছন্দের প্রজেক্টেও কাজ করেছি। 
১৬ বছরের জার্নি ঘিরে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?
কেরিয়ারের শুরু থেকেই আমি সন্তুষ্ট। আর এখন যা পাচ্ছি, তা তো একপ্রকার বোনাস। যোগ্যতার তুলনায় অনেক বেশি পেয়েছি বলে মনে করি।

Advertisement

 
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ