বদলেছে জীবন
বদলেছে জীবন
১৫ বছরের অভিনয় জীবনে ‘লাভ কা দ্য এন্ড’, ‘বার বার দেখো’-র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তাহা। তবে ‘হীরামান্ডি’ তাঁকে দিয়েছে পরিচিতি। ‘হীরামান্ডি’র চূড়ান্ত সাফল্যের পর তাহার জীবন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। অভিনেতার কথায়, ‘অনেক নতুন জিনিস ‘হীরামান্ডি’র জার্নিতে শেখার সুযোগ পেয়েছি। মানুষের অনেক ভালোবাসাও পেয়েছি। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় মানুষ হিসেবেও আমি বদলেছি।’
মুম্বইকে বোঝা ছিল চ্যালেঞ্জ
শৈশব থেকে যৌবন— তাহার জীবনের অধিকাংশ সময় বিদেশে কেটেছে। কেরিয়ারের শুরুতে মুম্বইয়ের মতো ব্যস্ত শহরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তাঁর জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। ‘প্রথমবার যখন মুম্বইতে এসেছিলাম, তখন চার-পাঁচ মাস তো শুধু অ্যাক্টিং স্কুল আর বাড়ি, এই দুই জায়গাতেই কাটত। তারপর ধীরে ধীরে মুম্বইকে চিনতে শুরু করলাম। অডিশনের জন্য যখন বাইরে বের হতাম, তখন দেখতাম এখানে কত মানুষ এবং কত কিছু অবিরত ঘটে চলেছে। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম এই ভিড়ের মাঝে নিজের নাম তৈরি করতে হবে। তাই চ্যালেঞ্জটা ছিল প্রথমে মুম্বইকে বোঝা, এখানে টিকে থাকা এবং নিজেকে পরিবর্তন করা। আজ ১৫ বছর পর গর্ব করে বলতে পারি আমি মুম্বইয়ের মানুষ’, আবেগের সঙ্গে বললেন এই তরুণ অভিনেতা।
মায়ের স্বপ্ন
তাহা জানান, তাঁর মায়ের স্বপ্ন ছিল অভিনেত্রী হওয়া। সেই শখ পূরণ হয়নি। সে কারণেই মা তাঁকে অভিনেতা হওয়ার পথে সবরকম সাহায্য করেছেন। অভিনেতা বলেন, ‘বরাবরই আমার অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। মায়ের অভিনেতা হওয়ার শখ পূরণ হয়নি, কারণ আমার দিদিমা অনুমতি দেননি। আজ আমি আমার মাধ্যমে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করছি। এখান থেকেই আমার অভিনয়ের প্রতি প্যাশন তৈরি হয়েছে। আমি সিনেমা এবং গল্প ভালোবাসি।’
হতাশার আখ্যান
জীবনে অসংখ্যবার প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান তাহা। হতাশার সুরে তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে আমি ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম, কেঁদেছিলাম। এমনও হয়েছে, সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ জানতে পারি নির্মাতারা আমাকে না জানিয়েই অন্য কাউকে নিয়ে শ্যুটিং করতে চলে গিয়েছে। একটা ছবির সব কাজ করার পরও ছবিটা মুক্তি পায়নি। ওই সময় শুধুই হতাশা ঘিরে ধরেছিল। দিশেহারা হয়ে ভাবতাম, এবার কী করব? সে সময় মায়ের কথা মনে করে আবার ঘুরে দাঁড়াতাম।’
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই