Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ছাগল খুঁজতে গিয়ে ঢুকে পড়েছি হুজুর! ফেরত পাঠিয়ে দিন’, কোর্টে দোষ কবুল, জেল বাংলাদেশির

‘হুজুর আমরা গরিব। মাঠে ছাগল চড়াতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ একটি ছাগল চোখের আড়ালে চলে যায়।

‘ছাগল খুঁজতে গিয়ে ঢুকে পড়েছি হুজুর! ফেরত পাঠিয়ে দিন’, কোর্টে দোষ কবুল, জেল বাংলাদেশির
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: ‘হুজুর আমরা গরিব। মাঠে ছাগল চড়াতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ একটি ছাগল চোখের আড়ালে চলে যায়। ওকে খুঁজতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলি। কখন যে ভুল করে ভারতীয় সীমানায় ঢুকে পড়েছিলাম, খেয়াল করিনি। এমন ভুল আর কখনও হবে না। আমাকে বাংলাদেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করলে ভালো হয়’।

Advertisement

ভরা এজলাসে দাঁড়িয়ে এভাবেই কাতর কণ্ঠে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বাংলাদেশের যশোর জেলার বাসিন্দা বছর আটত্রিশের নাসিমা বেগম।  বনগাঁ আদালতে দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক প্রদীপকুমার অধিকারীর এজলাসে দোষ কবুল করে অঝোরে কাঁদতে থাকেন এই বাংলাদেশি গৃহবধূ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বাগদা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন নাসিমা। বিচারকের মন্তব্য, কোনও মামলায় শুধু দোষ স্বীকার করলেই পার পাওয়া যায় না। তিনি নাসিমাকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও ছ’মাসের হাজতবাসের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গৃহবধূর দ্রুত বাড়ি ফেরার আর্জি প্রসঙ্গে আদালতের মন্তব্য, সাজার মেয়াদ শেষ হলে যাতে এই গৃহবধূ বাংলাদেশে ফিরতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে জেল কর্তৃপক্ষকে।
ভারতীয় সীমানায় ঢোকার পর নাসিমা বেগমকে যখন পাকড়াও করা হয়, তখন তাঁর কাছে না ছিল কোনও পরিচয়পত্র, না ছিল কোনও বৈধ কাগজ। স্বভাবতই বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে বাগদা সীমান্তে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। বিচারাধীন বন্দি হিসেবে তাঁর স্থান হয় সংশোধনাগারে। এই মামলায় পুলিস তদন্ত শেষ করে বনগাঁর অতিরিক্ত 
মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট পেশ করে। মামলাটি বিচারের জন্য যায় বনগাঁর দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের এজলাসে। সম্প্রতি সেখানে অভিযুক্ত বাংলাদেশি বিচারককে হাতজোড় করে বলেন, ‘হুজুর আমি এই মামলার শুনানি চাই না। আমি দোষ স্বীকার করছি। আমাকে কম সাজা দেওয়া হোক। এদিকে, বাড়ির অবস্থা কেমন জানি না। স্বামী ও পরিবারের অন্যরা কেমন আছেন, তাও জানি না। ওঁদের জন্য বড্ড মন খারাপ করছে’। গৃহবধূর উদ্দেশে বিচারকের মন্তব্য, আইনের কাছে আবেগের কোনও স্থান নেই। আপনি দোষ স্বীকার করেছেন, তাই আপনাকে সাজা পেতে হবে। এরপরই বিচারক অভিযুক্ত বাংলাদেশিকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন। বিচারক ওই গৃহবধূর উদ্দেশে বলেন, ‘এই রায়ের বিরুদ্ধে আপনি প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আপিল মামলায় যেতে পারেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ