নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগে ই এম বাইপাস ছিল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (কেএমডিএ) আওতাভুক্ত। ফলে, এই রাস্তার দু’ধারে যা বিজ্ঞাপন লাগানো হতো, তা থেকে আয় হতো কেএমডিএর। কিন্তু, পরবর্তীকালে এই বাইপাস রাস্তা কলকাতা পুরসভার হাতে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই এখানকার বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংগুলি পুরসভার আওতায় আসে। এবার বাইপাস থেকে বিজ্ঞাপন ফি বাবদ বিপুল আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। আগে, যে দরে কেএমডিএ বিজ্ঞাপন ফি নিত, সেই দাম এবার প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ফলে, শুধু ইএম বাইপাস থেকে বছরে প্রায় ১৬ কোটি টাকা আয়ের টার্গেট নিয়েছে পুরসভা। যার জেরে বিজ্ঞাপন খাতে পুরসভার আয় আগামী অর্থবর্ষে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়বে বলে আশা পুরকর্তাদের।
Advertisement
পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগ সূত্রে খবর, বাইপাসে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য ১৭টি মনোপোল, চারটি এলইডি ও একটি গেট রয়েছে। এক কর্তা বলেন, বাইপাসের বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংগুলি আমাদের হাতে আসার পর সেগুলি বণ্টনের জন্য নতুন করে টেন্ডার ডাকা হয়। আগে কেএমডিএ নামমাত্র বিজ্ঞাপন ফি নিত। প্রতি বর্গফুটে প্রতি বছর কোথাও ১৭০০ টাকা, কোথাও ২১০০ টাকা নেওয়া হতো। তা বাড়িয়ে এখন বছরে বর্গফুট পিছু ৩৮০০ টাকা থেকে ৪১০০ টাকা করা হয়েছে। তাতে মাসে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে। এলইডির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে সেখান থেকেও মাসে প্রায় এক কোটি টাকা আসবে। বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যে গেট রয়েছে, তার টেন্ডার এখনও হয়নি। সব মিলিয়ে শুধু বাইপাস থেকেই প্রায় ১৬ কোটি টাকা আদায় হতে পারে। সূত্রের খবর, চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞাপন খাতে পুরসভা আদায় করেছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে তা ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা। এখনও বছর শেষ হতে আরও দেড় মাস বাকি। ফলে, বিজ্ঞাপন খাতে আয় আরও বাড়বে। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই খাতে ১০০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। ফলে, বাইপাস থেকে মোটা টাকা এলে পুরসভার আয় এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়বে। পাশাপাশি, নয়া বিজ্ঞাপন নীতি চালু হলে এই আয়ও আরও বাড়বে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।



