১৯৮০ সালে শাহ বানো মামলা দ্বারা অনুপ্রাণিত ‘হক’ ছবিটি সদ্য মুক্তি পেয়েছে। সুপর্ণ ভার্মা পরিচালিত এই ছবিতে শাজিয়া বানো-র চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়ামি গৌতম। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?
১৯৮০ সালে শাহ বানো মামলা দ্বারা অনুপ্রাণিত ‘হক’ ছবিটি সদ্য মুক্তি পেয়েছে। সুপর্ণ ভার্মা পরিচালিত এই ছবিতে শাজিয়া বানো-র চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়ামি গৌতম। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?
‘হক’ সংবেদনশীল সিনেমা। বিতর্কে জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল?
আমার মনে হয় একজন অভিনেতার একটাই লেন্স থাকা উচিত, সেটা হল ছবির গল্প। আমি দেখি ছবিটা নির্মাণ করা হচ্ছে শুধুমাত্র বিতর্ক তৈরি করার জন্য, নাকি আলোচনার জন্য। এই দুটো বিষয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। ইন্ডাস্ট্রিতে এত বছর কাটানোর পর দর্শক জানেন, আমি শুধু বিতর্কের জন্ম দেওয়ার জন্য সিনেমা করি না। সিনেমা খুব ভালো বা খুব খারাপ হলে তা নিয়ে আলোচনা হয়। মাঝারি মাপের সিনেমার কোনও জায়গা নেই।
কী দেখে প্রজেক্ট নির্বাচন করেন?
চিত্রনাট্য। পড়ার সময় আমার মাথায় প্রথম যে ভাবনা আসে, সেটা একদম খাঁটি। তার বাইরে আমি যাই না। যদি একবার ভাবি ছবিটা করব, তাহলে নির্ভয়ে তা করি। এছাড়া বাস্তবধর্মী কাহিনি হলে খুবই ভালো। এরপর চরিত্র আর পরিচালক আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এই ছবিতে আপনি অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। বাস্তবে কোনও বদলের জন্য কি লড়াই করবেন?
আমার কাজের মাধ্যমে লড়াই করতে চাই। আগে তো অভিনেত্রীরা বিয়ের খবর গোপন রাখতেন। সন্তান তো দূরের কথা! আমি মা হয়েছি, কাজ করছি। আমার কাজে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। এটা এখন অনেক বড় বদল বলে মনে করি। দর্শকের চোখে এখন একজন অভিনেত্রীর ভাবমূর্তি অনেকটা বদলে গিয়েছে। বলিউডের প্রসঙ্গে বলতে পারি, এখন কোনও অভিনেত্রী মা হওয়ার পর কাজ করতে চাইলে সৃজনশীলতার দিক থেকে তাঁকে কোনও বাধার মুখোমুখি হতে হয় না। এটা আমাদের বড় পাওনা। তবে মেয়েদের সুরক্ষা আর শিক্ষা এই দুটো বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর এনিয়ে আমি সরব হতে চাই।
আজকের যুগের মেয়েদের কী বার্তা দেবেন?
অভিনেত্রী হিসেবে শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয় করে আমি মেয়েদের প্রভাবিত করার সুযোগ পেয়েছি। আগামী দিনেও এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চাইব। আমি আশাবাদী এই ছবিটা নারী, পুরুষ উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলবে।
দেবারতি ভট্টাচার্য • মুম্বই