নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অতি ভারী বৃষ্টিতে কলকাতায় যে অবস্থা হয়েছে, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের তুমুল সমালোচনা চলছে সমাজমাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উত্তরাখণ্ড, দিল্লি, উত্তর প্রদেশে ও গুজরাতের মতো পদ্মশাসিত রাজ্যের সাধারণ মানুষের দুর্দশার পর্ব নিয়ে মুখ না খুললেও, বাংলার সমালোচনায় এক জোট রাম-বাম! বিরোধীদের এই আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার পুজো উদ্বোধনে গিয়ে মমতা জানিয়ে দিলেন, মৃত্যু নিয়ে ওরা (বিজেপি) যে রাজনীতি করছে, তা দুর্ভাগ্যজনক।
কলকাতায় অতি ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনে মানুষের পাশে না থেকে বিজেপি, সিপিএম নেতারা শুধু দিনভর ‘ভাষণ বাজি’তে ব্যস্ত ছিলেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এমনকী আদালত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছেন এক ‘মামলাবাজ’। এ প্রসঙ্গে এদিন সুরুচি সংঘের পুজো উদ্বোধনে গিয়ে মমতা বলেন, আমরা কখনও মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করি না। কিন্তু ওরা যা করছে, তা দুর্ভাগ্যজনক। হাতে একটা কিছু পেয়েছে বলে না জেনে-বুঝে যা ইচ্ছা বলে দেবে, তা ঠিক নয়। ওদের উচিত আয়নায় নিজের মুখ দেখা। তারপর অন্যকে নিয়ে বলা। আদালতে মামলা পর্যন্ত করেছে শুনলাম। কিন্তু এত বৃষ্টি কেন হয়েছে, তা আমাকে জিজ্ঞাসা না করে ওরা আকাশ’কে গিয়ে করুক। আর কেন্দ্রের সরকারকে গিয়ে প্রশ্ন করুক কেন ড্রেজিং হয় না। তিনি উল্লেখ করেছেন, লন্ডনে ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে ১০ দিন জল দাড়িয়ে থাকে। আবারও দিল্লিতেও ৫-৬ দিন জল দাড়িয়ে ছিল। মহারাষ্ট্রেও জল জমেছিল কয়েক দিন। উত্তরাখন্ডে অনেক মানুষ মারা গিয়েছে। ফলে বিরোধীদের উচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে কোনও রাজনীতি না করা।
এদিন সুরুচিসংঘের থিম ভাবনার প্রশংসা করেছেন মমতা। পুজো প্রাঙ্গণে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিপ্লবীদের সম্পর্কিত তথ্য শিক্ষার্থীদের কাজে আসবে বলে জানান তিনি। এই পুজোর কর্তা তথা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বাংলা আজ গোটা দেশকে পথ দেখাচ্ছে।
সুরুচি সংঘের আগে আলিপুর বডিগার্ড লাইন্সের দেবীপুজোর উদ্বোধন করেন মমতা। পুলিশ কর্মীদের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পরিবার পরিজন ছেড়ে সব উৎসব পার্বণে এবং বছরভর সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে পুলিশ কর্মীরা নিরলস প্রয়াস চালান, সেই কথাই বিস্তরিতভাবে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, পুলিশ কর্মীরা আমাদের বন্ধু। আপনাদের ছাড়া চলে না। দু-একটি জায়গায় ভুল হয়ে গেলে সমালোচনা শুনতে হয়। কিন্তু আপনারা দেশ-রাজ্যের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ। আপনাদের সেলুট। আপনাদের পরিবারের সদস্যদেরও কৃতজ্ঞতা জানাই। বডিগার্ড লাইন্সের উদ্বোধনীপর্বে ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, ডিজি রাজীব কুমার, সিপি মনোজকুমার ভার্মা, পুজোর অন্যতম উদোক্তাতথা কলকাতা পুলিশের ওএসডি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, চিত্রতারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, মুমমুন সেন, সঙ্গিত শিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। এদিন ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার ৩০০ পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিবারের মতো নিয়ম করে চেতলার নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমেও গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।