Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মৌরি স্পোর্টিংয়ের ট্রায়ালে এসেছিলাম ৫ টাকা নিয়ে

মৌরি স্পোর্টিংয়ের ট্রায়ালে এসেছিলাম ৫ টাকা নিয়ে
  • ৬ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

ষষ্ঠী দুলে: হরিপালের প্রত্যন্ত গ্রাম সরাই ন’পাড়া। ধুতি, পাঞ্জাবি পরা এক সাহেবকে দেখতে দুলে বাড়ির উঠোনে তখন উপচে পড়া ভিড়। একহাতে ধুতির কোঁচা সামলে বেলজিয়ান কোচ ফিলিপ রাইডারও মুচকি হাসছেন। সেই মুহূর্ত ভুলব না কখনও। একবার অমল স্যারকে গ্রাম দেখার আমন্ত্রণ জানাই। আমায় অসম্ভব ভালোবাসতেন কিংবদন্তি কোচ। এককথায় রাজি। সেবার গ্রামের দিঘিতে নৌকায় চড়ে মাছ ধরেছিলেন স্যার। এমন বিখ্যাত মানুষদের স্পর্শ পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের। ফুটবলার না হলে ষষ্ঠী দুলেকে কে চিনত? হরিপালের ষষ্ঠীকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে ময়দান। ঘরোয়া লিগ না থাকলে হয়তো হারিয়েই যেতাম।

Advertisement

গড়ের মাঠে প্রথম ক্লাব মৌরি স্পোর্টিং। ট্রায়ালের সকালে দুরুদুরু বুকে হাওড়া স্টেশনে হাজির আট বন্ধু। পকেট গড়ের মাঠ। অভাবের সংসারে টাকা পাই কোথায়? এক বন্ধুর বাবা পকেটে ভরে দেন ৫ টাকার নোট। ‘ছাতু, মুড়ি কিছু কিনে খাস বাবা।’ মৌরির কোচ চাঁদু চ্যাটার্জি সুযোগ দেন দলে। তিন বছর খেলার পর সই করি জর্জ টেলিগ্রাফে। নতুন বুট, কিছু টাকা, বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ। কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। তবে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। যাতায়াতের ভাড়া জোগাড় করা মুশকিল। প্র্যাকটিসের পর ময়দানের জর্জ টেলিগ্রাফ তাঁবুতেই থেকে যেতাম। সকালে পান্তা ভাত খেয়ে প্র্যাকটিস। দুপুরে মালিদের সঙ্গে রান্নার পর বিশ্রাম। পেটে গনগনে খিদে। একথালায় খেতাম ওদের সঙ্গেই। বাড়িতে তীব্র অভাব। শুধু জেদ আর তাগিদই সম্ভব। লড়ে যেতাম সাধ্যমতো। এরপর মোহন বাগান, ইস্ট বেঙ্গল, চাকরি। কেরিয়ারের সোনালি সময়। ঘেরা মাঠের মাদকতায় ভেসে গিয়েছি ময়দানে। প্রতি ম্যাচেই দর্শকের চাপ। জিতলে পিঠ চাপড়ানি। হারলে গালিগালাজ। এটাই ময়দান। ইস্পাতের মতো নার্ভ চাই। লিগই ফুটবলার তৈরির স্কুল। বিদেশি ফুটবলারের বিরুদ্ধে খেলার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। এখন সেসবই গল্পকথা মনে হয়। টিমটিম করে জ্বলছে লিগ। বিদেশি খেলাতেই হবে। সঙ্গে অন্তত কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার খেলানোর নিয়ম চালু হোক। তুলোয় মুড়ে রেখে লাভ নেই। শুধু আইএসএল খেলে ফুটবলের উন্নতি অসম্ভব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ