নয়াদিল্লি: সমালোচনা যতই হোক, তা আর স্পর্শ করে না সঞ্জু স্যামসনকে। মঙ্গলবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ইনিংসে অনেক প্রশ্নকেই গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেছেন তিনি। ২২ বলে ৫৭ করার পর সেই মেজাজেই প্রচারমাধ্যমের সামনে বলেছেন, ‘আমি চেষ্টা করি ওয়াইফাই বন্ধ রাখার। তারপরও কখনো কখনো অনলাইনে সিনিয়র খেলোয়াড়দের নানা রকমের মন্তব্য চোখে পড়ে যায়। আমি বুঝি যে, তাঁরা নিজের মতো করে ইতিবাচক বা নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে শব্দচয়ন করেন। সেগুলো সামলানোর মতো যথেষ্ট পরিণত আমি।’
একটা সময় অবশ্য সমালোচনা একদমই হজম করতে পারতেন না সঞ্জু। তাঁর কথায়, ‘প্রথম প্রথম খারাপ লাগত। কারণ, আমি তো মেশিন নই। এমনকি, রোবটও নই। তাই সমালোচনায় কষ্ট হত। প্রভাব পড়ত মনে। তখন নিজের সঙ্গে কথা বলতে হয়। কী করা উচিত, সেটা ভাবাও জরুরি।’ ভারতীয় ক্রিকেটারদের যেভাবে সবসময় অনুবীক্ষণের তলায় ফেলে যাচাই করা হয়, তা এড়ানো কঠিন বলেই মনে করেন তিনি। সঞ্জুর মতে, ‘বাইরে থেকে যেসব কথাবার্তা ভেসে আসে, তাতে ভারতীয় ক্রিকেটারদের কাজটা কঠিন। তবে মানসিকভাবে স্বচ্ছ থাকা দরকার। কীভাবে প্রস্তুতি নেব, কীভাবে খেলব, সেই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা গড়ে তুলতে হয়। লোকজনের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিলে ব্যাটই করতে পারব না। আউট হলে কী হবে, ব্যাট করতে নামলে সেই ভাবনায় ঘুরপাক খেত মাথা।’
১৫ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশীর জন্যও কি চাপ বাড়ছে? সঞ্জুর উত্তর, ‘ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া সহজ নয়। ১৫ বছরের একটা ছেলে সাতশো-আটশো রান করে ফেলেছে। বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমার পারফরম্যান্সও ভালো ছিল। তারপর বৈভবকে যেকোনো ভাবে দলে সুযোগ দিতেই হত। আমিও দু-তিনটে ম্যাচে রান পাইনি। তখন ও খেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু করার থাকে না। আইপিএলে আমাকেও ক্যাপ্টেন হিসাবে এমন অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমি তাই এসব নিয়ে ভাবি না। কোচ গম্ভীরের সঙ্গে এবিষয়ে কথাও হয়। উনি ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেন প্রয়োজনে। আমি তাই নিজের কাজে মন দিই। স্রেফ একটা কথাই মাথায় রাখি— আমরা একটা দল। আর খেলছি দেশের হয়ে।’