Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আমি জমি মাফিয়া নই, শেখ শাহজাহানও নই!’

সবংয়ের রামভদ্রপুরের বেশ কয়েকজন কৃষক প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে জমি দখল করে ভেড়ি তৈরিতে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন।

‘আমি জমি মাফিয়া নই,  শেখ শাহজাহানও নই!’
  • ৩০ মে, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ‘আমি জমি মাফিয়া নই। আর শেখ শাহজাহানও নই। জন্মগতভাবে আমরা ছিলাম ভূস্বামী। বাংলার বারো ভুঁইয়ার এক ভুঁইয়ার বংশধর। আমাদের পরিবারের ৩০-৩২ বিঘা জমি বাম আমলে দখল হয়ে যায়। সেখানে এখন চাষ করছেন সবংয়ের বহু মানুষ।’ কৃষিজমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে শুক্রবার এই ভাষাতেই গর্জে ওঠেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। সবংয়ের রামভদ্রপুরের বেশ কয়েকজন কৃষক তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল করে ভেড়ি তৈরিতে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাঁথির বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিযোগ জানাতে। মোহিনীমোহন পাল, তাপস পাল প্রমুখ কৃষকদের অভিযোগ ছিল, জোর করে তাঁদের জমি কেড়ে নেওয়া হয়। ২০২১ সালে নিজেদের জমি ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের থানায় ডেকে হুমকি দেওয়া হয় এবং সাদা কাগজে জোর করে সই করিয়ে নেওয়া হয়। এমনকী তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এনিয়ে আদালতের নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলেও দাবি অভিযোগকারী কৃষকদের।

Advertisement

কৃষকদের এই অভিযোগের জবাবে শুক্রবার সবংয়ে মানসবাবু জানান, ‘রামভদ্রপুর মৌজার প্রায় ২১৪ একর ওই জমি বছরের সাত-আট মাস জলে ডুবে থাকে। চাষ হয় না। ওখানকার ১০৫৫ জন কৃষক এজন্য ভেড়ি তৈরি করে মাছ চাষ করতে চেয়েছিলেন। আর ৬১ জন কৃষক চাষ করতে চেয়েছিলেন। এনিয়ে ২০১৯ সাল থেকেই দু’ পক্ষের মধ্যে একটা সমস্যা ছিল। আমি তা জানতামও না। ২০২১ সালে বিষয়টি আমার কানে আসে। সবংয়ের নব নির্বাচিত বিধায়ক অমল পন্ডাও তখন তৃণমূলে ছিলেন। তারপর দু’ পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় বিএলআরও, এসডিও, বিডিও, ওসি সহ সকলের উপস্থিতিতে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করা হয়। অনিচ্ছুক ৬১ জন তাও মানতে রাজি ছিলেন না। ২০২২ সালে তাঁরা আদালতে যান। দু’ পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয় আদালতের তরফে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এনিয়ে আদালত চূড়ান্ত রায়দানও করেছে। বিএলআরও সহ প্রশাসনের আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ মে (২০২৬) সবং থানায় এই সংক্রান্ত বৈঠকের পর মিটমাট হয়ে গিয়েছে বলেও আমি জানি। তারপর ২৮ মে, বৃহস্পতিবার এই ঘটনা!’ মানসবাবু এও বলেন, ‘আমি চাইব মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তদন্ত করুন। আমি দোষী হলে, দু’ হাজার বার কান ধরে ওঠবোস করব।’
এদিন শঙ্করপ্রসাদ মাইতি, পবিত্র মাইতি প্রমুখ ভেড়ির মালিকরা বলেন, ‘বছরের সাত-আট মাস জলে ডুবে থাকে ওই এলাকা। ২১৪ একরের মধ্যে তাই ১৪৪ একরে আমরা ভেড়ি তৈরি করে মাছ চাষ করছি। বাকি ৭০ একরের মধ্যে ৩০-৩২ একর জমিতে ওই ৬১ জন ধান চাষ করেন। এতে কোথাও কোনো সমস্যা নেই। আদালতের নির্দেশ মেনে আমরা তাঁদের বাধাও দিইনি।’ এই বিষয়ে বিজেপির নব নির্বাচিত বিধায়ক অমল পন্ডা বলেন, আমি সেই সময় নিজে উদ্যোগ নিয়ে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করেছিলাম। তারপর তো বিষয়টি আইন-আদালতে অবধি গড়ায়। বিষয়টি প্রশাসনিকভাবেই দেখা হবে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ