Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

‘আমি মমতার সৈনিক, ক্ষমা চাইব না’, শাহের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে চ্যালেঞ্জ সাকেত গোখলের

দফায় দফায় ‘ইন্টারভেনশন’ অমিত শাহসহ তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর। তৃণমূল এমপির একের পর এক মন্তব্য সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ চেয়ারম্যানের।

‘আমি মমতার সৈনিক, ক্ষমা চাইব না’, শাহের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে চ্যালেঞ্জ সাকেত গোখলের
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দফায় দফায় ‘ইন্টারভেনশন’ অমিত শাহসহ তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর। তৃণমূল এমপির একের পর এক মন্তব্য সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ চেয়ারম্যানের। বুধবার রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপর আলোচনার শুরু থেকেই চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেই বারবার তীব্র বিতণ্ডায় জড়িয়ে গেল তৃণমূল। রাজ্যসভায় অমিত শাহের পাল্টা তোপ, ‘আমি কারও দয়ায় সাংসদ হইনি। তাই কাউকে ভয় পাওয়ারও প্রশ্ন নেই। আপনারা সংসদে সঠিক তথ্য দিন।’ এই মর্মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে করা সাকেত গোখলের মন্তব্য রাজ্যসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকার। একাধিকবার তৃণমূল সাংসদকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান রাজ্যসভার নেতা জেপি নাড্ডা, সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজুসহ বিজেপি এমপিরা। বিজেপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েই সাকেত গোখলে বলেন, ‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। ক্ষমা চাইব না। বিজেপির ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন।’ 

Advertisement

রাজ্যসভায় এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উপর আলোচনা শুরু করেন সাকেত গোখলেই। বিতর্কের শুরুতেই চড়া সুরে বেঁধে দেয় তৃণমূল। সাকেত বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে আলোচনা শুনতে রাজ্যসভায় উপস্থিত হয়েছেন দেখে ভালো লাগছে। ছ’মাসের জন্য জেলে পাঠানো হয়েছে এমন ৩৮ বছর বয়সি একজন সাংসদকে আলোচনা শুরুর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’ এরপরেই একের পর এক তোপ দেগে সাকেত বলেন, ‘একটি জমিদারি মানসিকতা দেখা যাচ্ছে। রাজ্যগুলিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি শক্তিশালী রাজ্য প্রথম থেকেই এর কড়া বিরোধিতা করে আসছে। রাজ্যে সিবিআই এবং অন্যান্য এজেন্সির প্রায় ৬ হাজার ৯০০টি মামলা বকেয়া রয়েছে।’ এই প্রসঙ্গেই অমিত শাহ বলেন, ‘সিবিআই কিংবা অন্য যেসব এজেন্সির কথা সাংসদ বলতে চাইছেন, তার কোনওটিই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন নয়। অথচ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা চলছে।’ এরপরই শুরু হয় মন্তব্য এবং পাল্টা মন্তব্য। তুমুল হট্টগোল শুরু হয় বিজেপি এবং তৃণমূল এমপিদের মধ্যে। তৃণমূলের সমর্থনে সরব হয় কংগ্রেসসহ অন্য বিরোধীরাও। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার জন্য এতগুলো মামলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটে বিজেপি কিছু ভোট বেশি পাওয়ার কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের উপর আক্রমণ হয়েছে। আপনারা হাইকোর্টের নির্দেশকেও মানছেন না। রাজ্যে একটিও সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত গঠন হয়নি।’ উঠে দাঁড়ান নাড্ডাও। দাবি করেন, ‘সাকেত গোখলেকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।’ সাকেত মন্তব্য প্রত্যাহার না করায় এটিও রাজ্যসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিরেন রিজিজু বলেন, ‘আরও উদার মানসিকতা নিয়ে সংসদে কথা বলুন। শুধু আক্রমণ করছেন, কোনও ইতিবাচক পরামর্শ দিতে পারলেন না।’ তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘উদার মানসিকতা নেই বলে রিজিজু সাংসদকে অপমান করছেন।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ