• ‘পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় ডারউইন তত্ত্ব’,বলছিলেন দোলন রায়। সেই ‘সীমারেখা’র সময় থেকে শুরু। থিয়েটার, যাত্রা, সিনেমা, সিরিয়াল মিলিয়ে ৩৩ বছরের জার্নি। সেদিনের নায়িকা এখন মা কিংবা শাশুড়ির ভূমিকায়। ‘তিন ছেলের মা, এক বউমার শাশুড়ি। আবার কী!’, নিজের অভিনীত নানা চরিত্র নিয়ে হালকা রসিকতা করলেন দোলন।
অভিনয়ে এসেছিলেন ভালোবেসে। পরবর্তীতে সেই শিল্প মাধ্যমকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য হন অর্থের প্রয়োজনে। নাট্যায়ন, কায়ানট-এর মতো গ্রুপ থিয়েটারে নিজের শিল্পী সত্ত্বাকে সম্মৃদ্ধ করে খুব দ্রুত নাম লিখিয়েছিলেন বোর্ড (বাণিজ্যিক) থিয়েটারে। ‘তখন গ্রুপ থিয়েটারে অভিনয় করা ছিল ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মতো। মহিলা শিল্পীরা সেখানে শো প্রতি খুব বেশি হলে একশো টাকা পেতেন। পারিবারিক প্রয়োজনেই তাই বোর্ড থিয়েটার করতে গিয়েছিলাম। সেই সূত্রেই সিরিয়াল, সিনেমা’, বলছিলেন দোলন। তিন দশক পরেও তিনি মঞ্চের মায়া কাটিয়ে উঠতে পারেননি। কিন্তু মঞ্চে ফিরতে পারেন না সময়ের অভাবে। মাঝে দোলনের এহেন মঞ্চ-তৃষ্ণা কিছুটা মিটিয়ে ছিল যাত্রা। সেই মাধ্যমকেও দূরে ঠেলতে হয়েছিল সিরিয়ালের ব্যস্ততায়। ‘একসঙ্গে ন’টা সিরিয়ালে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি। দিনে দুটো ধারাবাহিকে অভিনয় করতেই হতো’, বললেন অভিনেত্রী।
যে অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে গিয়ে একদা দোলন এবং তাঁর সমসাময়িক শিল্পীরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই অধ্যবসায় বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে দেখা যায়? দোলনের উত্তর, ‘তুলনা করাটা ঠিক নয়। ওরা একরকম ভাবে বড় হচ্ছে। আমরা একরকম ভাবে বড় হয়েছি। স্ট্রাগল আমরাও করেছি ওরাও করছে। তবে পদ্ধতিটা আলাদা।’ সেক্ষেত্রে পরিকল্পনার স্তরে খামতি থেকে যাচ্ছে, স্বীকার করে দোলন বলেন, ‘তখন পূর্ব পরিকল্পনা হতো। এখন সেটা হয় না। তবে ওসব ভেবে লাভ নেই। রত্নাদির (ঘোষাল) মতো মানুষ পরিবেশকে মানিয়ে নিতে পারছেন না বলেই সিরিয়াল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। আমাকে কিন্তু কাজ করতে হবে।’
প্রিয়ব্রত দত্ত