নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি কমানোর জন্য বিশেষ অনুমতি চেয়ে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দ্বারস্থ রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাস। দপ্তরের বিশেষ সচিবকে চিঠি লিখে বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানান তিনি। চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। দফায় দফায় একাধিক দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের ফি কমানোর দাবিতে পড়ুয়াদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন রেজিস্ট্রার।
উপাচার্যের অনুপস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফি কমানো সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না বলেও উচ্চশিক্ষা দপ্তরের কাছে লিখিত জানান রেজিস্ট্রার। এক্ষেত্রে যুক্তি, উপাচার্য না থাকায় এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।
আজ, বৃহস্পতিবারও ফের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের একাধিক আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে এবিষয়ে কোন পথে এগনো যায়, সেবিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার।
তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা দপ্তরে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি, ফি কমানোর দাবি নিয়ে সমস্যা চূড়ান্ত আকার নিয়েছে। এবিষয়ে বিশেষ অনুমতি দেওয়া যায় কিনা, সে বিষয়ে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছি।
অন্যদিকে, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পড়ুয়াদের একাংশ ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলন নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। সামনে না থেকেও কেউ বা কারা এই আন্দোলনে পিছন থেকে কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য মদত দিচ্ছেন কি না, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। এবিষয়ে সরাসরি কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে নারাজ। পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, ফি বৃদ্ধি নিয়ে সমস্যা নিশ্চয়ই রয়েছে। কিন্তু সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার তিনশো পড়ুয়ার মধ্যে ৫০-৬০ জন বাড়তি উদ্যোগ নিয়ে যে আন্দোলন চালাচ্ছেন, তার পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই তো? তাঁদের কে বা কারা পরিচালনা করছেন, তাঁদের খোঁজ শুরু হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তরফে পড়ুয়াদের দাবিকে সমর্থন করা হলেও বিশৃঙ্খলা একেবারেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানয়ি. দেওয়া হয়েছে। দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করার পক্ষে থাকলেও গেট আটকে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের আটকে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করার পিছনে কোনও অন্য অভিসন্ধি রয়েছে বলে মনে করছে টিএমসিপি। সংগঠনের জেলা সভাপতি প্রসূন রায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের স্বার্থরক্ষা আমাদের কর্তব্য। তাঁদের দাবি নিয়ে আমরাও আন্দোলন করব। তবে তার মানে এই নয় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা মানা হবে। ফাইল চিত্র।