বিশাখাপত্তনম: টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয় দিল্লি ক্যাপিটালসের। রবিবার বিশাখাপত্তনমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৭ উইকেটে দুরমুশ করল রাজধানীর দল। সৌজন্যে মিচেল স্টার্কের আগুনে বোলিং। অজি স্পিডস্টার একাই পাঁচ উইকেট নিয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে দেন সানরাইজার্সের। তার জেরেই টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ১৮.৪ ওভারে ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় প্যাট কামিন্সের দল। জবাবে চার ওভার বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছয় ক্যাপিটালস (১৬৬-৩)। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন অক্ষর প্যাটেলরা। দুই ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট।
গত আইপিএলের ফাইনালে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে দাপট দেখিয়েছিলেন স্টার্ক। কেকেআরের জার্সিতে সেবার মাত্র ১৪ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট তুলে নেন অজি তারকা। এবার স্টার্কের নতুন ঠিকানা দিল্লি ক্যাপিটালস। তবে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠার পুরনো অভ্যাস বজায় রেখেছেন। রবিবার প্রথম ওভারেই অভিষেক শর্মা (১) রান আউট হওয়ায় ছন্দ কাটে সানরাইজার্সের। তারপর শুরু হয় স্টার্ক ম্যাজিক। ঈশান কিষান (২), নীতীশ কুমার রেড্ডি (০) ও ট্রাভিস হেডকে (২২) ফিরিয়ে তিনি চাপে ফেলে দেন গতবারের রানার্সদের। ৩৭ রানে ৪ উইকেট খোয়ানোর পর মনে হচ্ছিল একশো রানের গণ্ডিও টপকাতে পারবে না সানরাইজার্স। তবে মিডল অর্ডারে মরিয়া প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অনিকেত ভার্মা। ৪১ বলে ৭৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে হায়দরাবাদকে লড়াকু পুঁজি এনে দেন ২৩ বছর বয়সি তরুণ। মারেন ৫টি চার ও ৬টি ছক্কা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মধ্যপ্রদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে শতরান হাঁকিয়ে নজরে এসেছিলেন অনিকেত। এরপর মেগা নিলামে তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকায় দলে নেয় সানরাইজার্স। তবে আইপিএলের আগে সিনিয়র পর্যায়ে কোনও ম্যাচ খেলেননি তিনি। কিন্তু, মেগা মঞ্চে জাত চেনাতে ভুল হয়নি তাঁর। গত ম্যাচে লখনউয়ের বিরুদ্ধেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৩৬। রবিবার অনিকেতকে সঙ্গ দেন হেনরিখ ক্লাসেন (৩২)।
রান তাড়া করতে নেমে দিল্লি শুরু থেকেই দাপট দেখায়। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৮১ রান। তারপর ফাফ ডু’প্লেসি (৫০), জ্যাক ফ্রেজার (৩৮) ও লোকেশ রাহুলকে (১৫) ফিরিয়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তরুণ স্পিনার জিসান আনসারি। তবে সেই আশায় জল ঢেলে দেন অভিষেক পোড়েল (অপরাজিত ৩৪) ও ট্রিস্টান স্টাবস (অপরাজিত ২১)। ২৪ বল বাকি থাকতে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়ে এই জুটি।