


হায়দরাবাদ: টানা দুটো জয়! তার মধ্যে রবিবারের জয় মহানাটকীয়। সুপার ওভারে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারানোর পর আবেগে ভেসে যায় নাইটদের ডাগ-আউট। সেই ফুরফুরে মেজাজেই সোমবার নিজামের শহরে পা রাখল অজিঙ্কা রাহানে ব্রিগেড। রবিবার সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ। তার আগে কয়েক দিন সময় পাওয়া যাচ্ছে। আর তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে মরিয়া নাইট ম্যানেজমেন্ট। তবে তার আগে রিঙ্কু সিংয়ের দুরন্ত ইনিংসে মুগ্ধ দল। লখনউয়ের বিরুদ্ধে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া অবস্থা থেকে তিনিই টেনেছেন কেকেআরকে। ৫১ বলে তাঁর নট আউট ৮৩ তাই সোনার চেয়েও দামি। ৭টা চার ও ৫টা ছক্কার পাশাপাশি মোট ৫টা ক্যাচও ধরেন তিনি। এই জয়টা তাঁর কাছেও স্পেশাল। কারণ, বক্সে থেকে তাঁর নায়কোচিত ইনিংসের সাক্ষী হলেন বাগদত্তা প্রিয়া সরোজ। কলকাতার ইনিংসের শেষ ওভারে দিগ্বেশ রাঠিকে পরপর ৪ বলে ছক্কা মারার সময় লাফিয়ে উঠে চেঁচাচ্ছিলেন তিনি। সুপার ওভারে রিঙ্কু প্রথম বলেই বাউন্ডারি মেরে জিতিয়ে ফেরার সময় উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন প্রিয়া। তিনি বলেন, ‘খুব খুশি। শ্বশুরমশাইয়ের জন্যই এই ইনিংসটা খেলল ও। তাঁর কথা খুব মনে পড়ছে।’ উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে টি-২০ বিশ্বকাপ চলাকালীন পিতৃহারা হন রিঙ্কু।
প্রিয়ার উচ্ছ্বাসের মতোই ভাইরাল হয়েছে সুনীন নারিন ও রিঙ্কুর কথোপকথনের ভিডিয়ো। সুপার ওভারে মিস্ট্রি স্পিনারের দুরন্ত বোলিংয়েই জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল কেকেআরের। নারিনের ঘূর্ণিতেই লখনউ মাত্র ১ রানে হারায় ২ উইকেট। ড্রেসিং-রুমে এমন অবিশ্বাস্য বোলিংয়ের পর নারিনের সঙ্গে কথা বলে রিঙ্কুর পরিবার। তাঁর বোন হিন্দিতে ‘ভাইয়া’ হিসেবে সম্বোধন করেন ক্যারিবিয়ানকে। রিঙ্কু সংশোধন করে দেন, ‘ব্রাদার বোলো। হিন্দি বোঝে না।’ রিঙ্কুর বোন অবশ্য ফের হিন্দিতেই বলে ওঠেন, ‘দাদা, দারুণ বল করেছো।’ নারিন যদিও তা বুঝতে পারেননি। রিঙ্কু তখন ইংরাজিতে তা বোঝান। ভিডিয়ো কলে এরপর মায়ের সঙ্গে নারিনের পরিচয় করিয়ে দেন রিঙ্কু।
তবে উৎসবের এমন মেজাজেও অপ্রিয় প্রশ্নগুলো উঁকি দিচ্ছে। ক্যাপ্টেন রাহানে দিনের পর দিন ব্যর্থ। নেতা হিসেবেও সাদামাটা দেখাচ্ছে তাঁকে। ওপেনিং নিয়ে সমস্যা অব্যাহত। ফিন অ্যালেনের পর টানা হতাশ করলেন টিম সেইফার্টও। রামনদীপ সিংকে অহেতুক বয়ে চলা হচ্ছে। প্লে-অফে উঠতে এই সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান জরুরি।