লখনউ: মরণ-বাঁচন ম্যাচে আজ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মুখোমুখি লখনউ সুপার জায়ান্টস। ইতিমধ্যেই প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে হায়দরাবাদ। এখনও আশা টিকে আছে লখনউয়ের। তবে লিগের বাকি তিনটি ম্যাচে জিততে তো হবেই, সেই সঙ্গে ঋষভ পন্থদের মাথায় রাখতে হবে নেট রান রেটও।
পর পর তিনটি ম্যাচ হেরে বেশ বিপাকে লখনউ। বিশেষ করে ক্যাপ্টেন ঋষভের অফ-ফর্ম টিম ম্যানেজমেন্টকে আরও চিন্তায় ফেলেছে। রানের খরা দেখা দিয়েছে টপ অর্ডারেও। একটা সময় আইডেন মার্করাম, মিচেল মার্শ ও নিকোলাস পুরানের বিধ্বংসী ব্যাটিংই স্বপ্ন দেখিয়েছিল লখনউয়ের সমর্থকদের। কিন্তু তিন তারকার ব্যাটে ধারাবাহিকতার অভাব ফুটে উঠতেই ক্রমশ তলিয়ে গিয়েছে নবাবের শহরের দলটি। তবে সাময়িক বিরতি লখনউয়ের ব্যাটিংয়ে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছে কিনা, সেটা বোঝা যাবে সোমবার। ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে ঋষভরা চাইবেন বড় ব্যবধানে জিততে। সেক্ষেত্রে কিন্তু ব্যাটারদের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ।
আসলে লখনউয়ের বোলিং বড়ই সাদামাটা। তার উপর মায়াঙ্ক যাদবের পুনরায় চোট পাওয়ার ঘটনা দলের মনোবলে ধাক্কা দিয়েছে। পেস বোলিং শক্তিশালী করতে নিউজিল্যান্ডের ও’রৌরকিকে সই করিয়েছে লখনউ। তাঁকে হয়তো খেলানো হবে। এছাড়া আভেশ খান, আকাশ সিংও খেলতে পারেন। দুই স্পিনার হিসেবে সম্ভবত দিগবেশ রাঠি ও রবি বিষ্ণোই খেলবেন।
পচা শামুকে পা কাটার ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে আইপিএলে। তাই সানরাইজার্সের জয়ে লখনউয়ের বিদায় নিশ্চিত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আসলে হায়দরাবাদের ব্যাটিং খুবই শক্তিশালী। তবে ট্রাভিস হেডনে নিয়ে অনিশ্চিয়তা রয়েছে। তাই ওপেনার অভিষেক শর্মা কে হবেন, সেটাই দেখার। তাঁরা শুরুতে ঝড় তোলার ব্যাপারে যথেষ্ট দক্ষ। উল্টো দিকের বোলিংও তেমন ঝাঁঝালো নয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হায়দরাবাদের ব্যাটাররা রানের পাহাড় খাড়া করার চেষ্টা করবেন। ঈশান কিষান ভারতীয় ‘এ’ দলের সঙ্গে যাবেন ইংল্যান্ড সফরে। তার আগে নির্বাচকদের আস্থা অর্জনে তিনি নিশ্চয়ই মরিয়া থাকবেন। সেক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে স্ট্রোকের ফুলঝুরি। মিডল অর্ডারে হেনরিখ ক্লাসেন, অনিকেত ভার্মা হায়দরাবাদের বড় ভরসা।
আইপিএল মাঝপথে বন্ধ থাকায় অনেক বিদেশি ক্রিকেটারই দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছিল, হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স আর হয়তো ভারতে আসবেন না। কিন্তু দলের প্রতি তিনি যথেষ্ট দায়বদ্ধ। সামনে রয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল। তা সত্ত্বেও তিনি আইপিএলের বাকি লিগ পর্বের ম্যাচে সানরাইজার্সের হয়ে মাঠে নামতে আগ্রহী। যদি টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে বিশ্রাম না দেয়, তাহলে কামিন্সই নেতৃত্ব দেবেন লখনউয়ের বিরুদ্ধে। আসলে তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দলে সুন্দর ভারসাম্য তৈরি করে। এছাড়া হায়দরাবাদের বোলিংয়ে দেখা যেতে পারে পেসার জয়দেব উনাদকাট, হার্শল প্যাটেলকে।