নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছর পাঁচেকের বিবাহিত জীবন স্বামী-স্ত্রী। তার মধ্যে স্বামীর জীবনে বান্ধবীর প্রবেশ। সে অবৈধ সম্পর্ক হাতেনাতে ধরলেন স্ত্রী। তারপর রাস্তার মাঝ মধ্যিখানে সবার সামনে প্রায় অর্ধনগ্ন করে বেধড়ক মার স্বামীর বান্ধবীকে। থানায় অভিযোগও জানান। পুলিসে পাল্টা অভিযোগ করেন নির্যাতিতা মহিলাও। দু’পক্ষের বচসায় প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার আনন্দপল্লিতে। দু’পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে বাঁশদ্রোণী থানা। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক পাঁচ।
জানা গিয়েছে, আনন্দপল্লিতে পাশাপাশি বাড়িতে থাকেন সুপর্ণা কুণ্ডু ও পিঙ্কি গিরি। অভিযোগ, সুপর্ণার স্বামীর সঙ্গে পিঙ্কির সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রায় তিন বছর ধরে তাঁদের বারবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে তাঁদের নিষেধ করা হয়। কিন্তু পিঙ্কিদেবী সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার চাপ দিতেন। বুধবার রাতে তাঁকে ও সুপর্ণার স্বামীকে গড়িয়ায় একসঙ্গে দেখা যায়। খবর পেয়ে তাঁদের ধাওয়া করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তারপর ঘটনাস্থল থেকে দু’জন পালিয়ে যান। রাতে বাড়ি ফেরার পর পিঙ্কি গিরির উপর চড়াও হন সুপর্ণা কুণ্ডু। বেধড়ক মারধর করেন। পিঙ্কিকে বাঁচাতে এসে মার খেতে হয় তাঁর শাশুড়িকেও। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়েছে পিঙ্কিকে। সুপর্ণাদেবীর পাল্টা অভিযোগ, পিঙ্কি ও আর এক প্রতিবেশী মহিলা মারধর করেছেন। ঘটনাটি ঘিরে আনন্দপল্লিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। সুপর্ণা, পিঙ্কি, পিঙ্কির শাশুড়ি সহ আরও দু’জন প্রতিবেশীকে আটক করে বাঁশদ্রোণী থানা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পিঙ্কিকে একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে আমল দেননি পিঙ্কি। ভদ্র একটি পাড়ায় অবৈধ সম্পর্ককে কোনওভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। এলাকার মানুষ পিঙ্কির উপর ক্ষিপ্ত। স্বামী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী পুরুষের প্রতি আসক্ত হওয়ায় রোজই তাঁকে নিয়ে সমালোচনা হয়। কলকাতা পুলিসের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ সাবার্বান ডিভিশন) বিদিশা কলিতা বলেন, দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বাঁশদ্রোণী থানায় অভিযোগ করেছেন। মারধরের ঘটনা নিয়ে দু’পক্ষকেই আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।