


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: বিবাহ বহির্ভূত সর্ম্পকের সন্দেহে স্ত্রী ও বড়ো ছেলেকে হাসুয়ার কোপ দিয়ে খুন করার পর বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন স্বামী। হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উলুবেড়িয়া থানার বাণীতলায়। মৃতদের নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায় (৪৫), অপর্ণা মুখোপাধ্যায় (৩৮) এবং প্রবীর মুখোপাধ্যায় (১৮)। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মৃত প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের ছোটো ছেলে আবির মুখোপাধ্যায় জখম হয়েছে। তার হাতে আঘাত লেগেছে। সে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন। উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ দেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
মৃত মহিলার বাপের বাড়ির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রদীপের মা কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে। আজ শনিবার ধৃতকে উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হবে। প্রদীপের মা ছাড়াও স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। প্রদীপ সেভাবে কিছু কাজ করতেন না। তাঁর স্ত্রী একটি বাড়িতে কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সর্ম্পক আছে এই সন্দেহে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। অপর্ণা মুখোপাধ্যায়ের বাপের বাড়ির লোক কয়েকবার ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা করলেও ফল হয়নি। মাস দুয়েক আগে অপর্ণা দুই ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সেইমতো বাড়ির একটি ঘরে তিনি তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে থাকতেন এবং অন্য একটি ঘরে প্রদীপ তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১টা নাগাদ প্রদীপ তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের ঘরের টালির চাল খুলে ঘরের ভিতর ঢোকে। হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী ও বড়ো ছেলেকে কোপায়। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। ছোটো ছেলে আবির পালানোর চেষ্টা করলে, তাঁকেও কোপানে হয়। দৌড়ে পাশের বাড়িতে ঢুকে প্রাণ বাঁচায়। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে শেষে বাড়ির কাছে একটি গাছের নীচে প্রদীপ বিষ খান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া মেডিকেল কলেজে ভরতি করলে শুক্রবার দুপুরে প্রদীপের মৃত্যু হয়।
এদিন দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট। পড়ে আছে রক্ত। প্রতিবেশী রাজু দাস জানান, বৃহস্পতিবার রাতে চিৎকার শুনে দেখি প্রদীপ হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। ছোটো ছেলেকে খুঁজছে। ভয়ে আমরা কেউ সামনে যেতে পারিনি। পরে ১০০ ডায়ালে ফোন করলে পুলিশ এসে দেহ দুটি উদ্ধার করে। প্রদীপ এবং আবিরকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। হাসপাতালে প্রদীপ মারা যান। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় আবির বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করলে তার ঠাকুমা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখলেও নাতিকে বাঁচাতে এগিয়ে যাননি। এই ঘটনায় তাঁর ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ।