Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডান হাত কেটে দেয় স্বামী, বাঁ হাতে জীবন-যন্ত্রণার কাব্য রচনা রেণুর

স্বামী কর্তৃক ডান হাত কাটা সত্ত্বেও নার্স রেণু খাতুনের সাহসী জীবনযুদ্ধ। নতুন কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ, বিস্তারিত পড়ুন।

ডান হাত কেটে দেয় স্বামী, বাঁ হাতে  জীবন-যন্ত্রণার কাব্য রচনা রেণুর
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন নার্স হয়ে মানব সেবা করবেন। স্বপ্নপূরণে এগিয়ে চলছিলেন তিনি। তার মধ্যে বিয়েও হয়ে যায়। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। বাধ সাধেন স্বামী। সংসার ছেড়ে নার্সের কাজ করবে স্ত্রী? ওসব চলবে না। কাটারি এক কোপে কব্জি থেকে তাঁর ডান হাত কেটে দিয়েছিল স্বামী। তারপরও হার না মানা বীজমন্ত্রে শুরু করেছিলেন দীর্ঘ লড়াই। কেতুগ্রামের সেই রেণু এখন নার্সের চাকরি করেন। মানবসেবার অবসরে তাঁর বাঁ হাতে ধরা কলমও কথা বলে। লিখে ফেলেছেন আস্ত একটা কাব্যগ্রন্থ— ‘নিসর্গে মিশে যাই’। 

Advertisement

রেণুর কাব্যগ্রন্থটি প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা আর  মেয়েদের যন্ত্রণার কথার একটি কোলাজ। সমাজে কীভাবে মেয়েদের এখনও অবহেলিত হয়ে থাকতে হয় সেটাই তাঁর কাব্য-ভাবনার মূল আধার। বেশ কয়েকটি কবিতায় ব্যক্ত করেছেন সেই ভাবনা। রবিবার সন্ধ্যায় বর্ধমান জেলা গ্রন্থাগারে বইটি অনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রেণুর বাবা আজিজুল শেখ। মেয়ের এই সাফল্যে আনন্দাশ্রু তাঁর চোখে। তিনি বলেন, ‘মেয়ে কোনওদিনই হারতে শেখেনি। পরিস্থিতি যাই আসুক না কেন ও লড়ে গিয়েছে। জীবনের প্রতিটি যুদ্ধেই ও সফল।’ আর রেণু বলছেন, ‘আমার সাহিত্যর প্রতি ভালবাসা বহুদিনের। ডান হাত হারিয়েছি। হারিয়ে ফেলিনি মনবল। তাই বাঁ হাতে লেখা অভ্যাস করেছি। প্রথম দিকে ভালোভাবে লিখতে পারতাম না। কিন্তু, পরে আর কোনো অসুবিধা হয়নি। আমার এই প্রথম কাব্যগ্রন্থে আমার অনুভূতির কথা তুলে ধরেছি। মেয়েদের কীভাবে এই সমাজের সঙ্গে লড়তে হয়, সেটা আমার নানা কবিতায় নিজের মতো ব্যক্ত করেছি।’ কেতুগ্রামের চিনিসপুর গ্রামে বাড়ি রেণুর। আজিজুল সাহেবের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। এর মধ্যেই মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন রেণু। প্রথমে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি পান। পরে সরকারি হাসপাতালে নার্সের চাকরি পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু স্বামী চাইতেন না তিনি সরকারি হাসপাতালে নার্সের চাকরি করে স্বনির্ভর হয়ে উঠুন। একদিন তিনি যখন ঘুময়ে ছিলেন সেই সময় ধারাল অস্ত্র দিয়ে কব্জি থেকে তাঁর হাত কেটে নেন। ২০২৪ সালের ৪ জুনের এই ঘটনা শুনে শিহরিত হয়ে ওঠেন রাজ্যবাসী। এত কিছুর পরও স্বামী তাঁকে আটকে রাখতে পারেননি। তিনি নার্স হয়েই বুঝিয়ে দেন জীবন-যুদ্ধে কোনো প্রতিকূলতা তাঁকে আটকে রাখতে পারবে না। ডান হাতে  প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। বর্তমানে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের নার্সিং ট্রেনিং স্কুলে কর্মরত রেণু। কাজের অবসরেই তিনি লিখেছেন কাব্যগন্থ—‘নিসর্গে মিশে যাই।’  রেণু খাতুন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ