সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: প্রেমের সম্পর্কের পর মাত্র ছ’মাস আগে বিয়ে। এর মধ্যেই দাম্পত্য অশান্তি। আর সেই অশান্তির জেরেই স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। এরপর নিজেও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের আমবাড়ির ভোটপাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিবাড়ির ভবতোষ বিশ্বাসের সঙ্গে ভোটপাড়ার সোনালি বিশ্বাসের (২২) মাস ছয়েক আগে প্রেম করে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয় বলে মৃতার পরিবর সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই অশান্তির জেরে কয়েকদিন আগে বাপেরবাড়ি চলে আসেন সোনালি।
সোমবার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শ্বশুরবাড়িতে আসেন ভবতোষ। অভিযোগ, রাতে স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ির পাশে একটি বাড়ির ছাদে নিয়ে যান তিনি। সেখানেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোনালিকে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ভবতোষ নিজেও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
তবে রাত পর্যন্ত বিষয়টি জানতে পারেননি সোনালির বাড়ির সদস্যরা। তাঁরা মনে করেছিলেন, দু’জনেই হয়তো হলদিবাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু, মেয়ের কোনো ফোন না আসায় মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা খোঁজ শুরু করেন। তখনই ছাদে সোনালির রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়েছিলেন ভবতোষ।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ভোরের আলো থানার পুলিশ। সোনালির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে, অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ভবতোষকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার মা ঊর্মিলা বিশ্বাস বলেন, জামাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।
দাম্পত্য অশান্তির নেপথ্যে ঠিক কী কারণ ছিল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। পরকীয়ার কোনো যোগ রয়েছে, নাকি অন্য কোনো কারণে এই ঘটনা সবদিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ভোরের আলো থানা।