Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের, বনগাঁয় স্ত্রীকে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জের,  বনগাঁয় স্ত্রীকে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে খুন হলেন এক গৃহবধূ। তিনি তখন প্রেমিকের বাড়িতেই ছিলেন। সেই সময় ওই বাড়িতে হানা দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করল স্বামী। এরপর নিজের পেটে ছুরি চালিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে সে। সোমবার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁর গোপালনগর থানার পাল্লা কামারপাড়ায়। মৃতার নাম দীপু মিস্ত্রি (২৮)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বামী শুকদেব মণ্ডল। ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা মৃতার প্রেমিক সুনীল মণ্ডল ওরফে রতন। মৃতার দাদা গোপাল মিস্ত্রি শুকদেবের বিরুদ্ধে থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ বছর আগে গোপালনগরের বেলতার বাসিন্দা দীপুর সঙ্গে রেলগেট কলোনির বাসিন্দা শুকদেবের বিয়ে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শুকদেব নেশা করে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর উপর নানাভাবে অত্যাচার করত। মাস ছয়েক আগে দীপু তাঁর প্রেমিক সুনীলের সঙ্গে পালিয়ে যান। ওঠেন প্রেমিকের বাড়িতেই। এরপর স্ত্রীকে বাড়ি ফেরাতে একাধিকবার সুনীলের বাড়িতে আসে শুকদেব। স্ত্রীকে নানাভাবে বোঝানোরও চেষ্টা করে। তা নিয়ে কয়েকবার ঝামেলা হয় বলে অভিযোগ। সোমবার সন্ধ্যায় সুনীলের দাদার ঘরে বসে টিভি দেখতে দেখতে বিড়ি বাঁধছিলেন দীপু। তখন ওই ঘরে দীপু ছাড়াও ছিলেন সুনীলের দাদা নিখিল মণ্ডল ও বউদি নমিতা মণ্ডল। হঠাৎ শুকদেব তাঁদের ঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে স্ত্রীর কোমরে আঘাত করে। এরপর তাঁর শরীরে এলোপাথারি ছুরি চালাতে শুরু করে। নিখিল ও নমিতা তাকে ঠেকাতে গেলে তাঁদেরও খুন করার হুমকি দেয়। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তখন রক্তমাখা শরীরে অস্ত্র হাতে বাইরে এসে প্রতিবেশীদের হুমকি দেয় শুকদেব। ফলে কেউই ভয়ে আর এগয়নি। সেই সময় রক্তাক্ত অবস্থায় কোনওমতে পাশের ঘরে চলে যান দীপু। শুকদেব ওই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর নিজের পেটে ছুরি চালিয়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিস দরজা ভেঙে দু’জনকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দীপুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। 
নিখিল মণ্ডল বলেন, আমি ও স্ত্রী সেই সময় ঘরেই ছিলাম। মেঝেতে বসে বিড়ি বাঁধছিলেন দীপু। আচমকা শুকদেব ঘরে ঢুকে দীপুকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। ঠেকাতে গেলে আমাদেরও মেরে ফেলার হুমকি দেয়। মৃতার দাদা গোপাল মিস্ত্রির দাবি, বোনকে নানাভাবে হেনস্তা করত শুকদেব। যে কারণে স্বামীর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল সে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ