


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্ত্রীকে খুন করে আত্মহত্যা সাজাতে চেয়েছিল স্বামী। কিন্তু জারিজুরি খাটল না। সুইসাইড নোটের বয়ান ধরিয়ে দিল খুনিকে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত স্বামীকে। ঘটনাটি শ্যামপুকুরের।
পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর বাড়িতে মিলেছিল সুইসাইড নোট। তাতে লেখা ছিল, আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ‘আমাদের’ শব্দটি খটকা লাগে পুলিশের। মৃতার স্বামীর খোঁজ না মেলায় সন্দেহ আরও বাড়ে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, পূজা পুরকাইতকে (২৭) শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসায় রবিবার রাতে শ্যামপুকুর থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে স্বামী সুমিত পুরকাইত (২৯)।
শ্যামপুকুর এলাকার ডিসপেন্সারি লেনের বাসিন্দা সুমিতের সঙ্গে পূজার বিয়ে হয় বছর দশেক আগে। তাঁদের ন’বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বেসরকারি সংস্থার কর্মী সুমিত পরিবার নিয়ে বাড়ির নীচে তলায় থাকত। শনিবার সকালে পূজাকে হাসপাতালে নিয়ে যান ভাশুর। তিনি জানান, ভাইয়ের স্ত্রী ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছে। হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয় পূজাকে। হাসপাতাল থেকে খবর দেওয়া হয় শ্যামপুকুর থানায়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ভাশুর সহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোট। তাতে লেখা ছিল, আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমাদের এই শব্দটি ভাবায় অফিসারদের। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, শনিবার থেকে বাড়িতে নেই তরুণীর স্বামী সুমিত। স্ত্রী আত্মঘাতী হয়েছেন, অথচ স্বামী নিখোঁজ কেন, এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে তদন্তকারীদের মনে। রবিবার ময়নাতদন্ত হতেই জানা যায়, পূজাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এরপরই তদন্ত অন্য দিকে মোড় নেয়। খুনের মামলা রুজু হয়। রবিবার গভীর রাতে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে স্বামী সুমিত। পুলিশের কাছে স্বীকার করে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে সে খুন করেছে। তারপর নিজেই সুইসাইড নোট লেখে। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতেই সে এই কাজটি করেছিল। তার ধারণা হয়েছিল, শ্বাসরোধ করে খুন করলে সেটি জানা যাবে না। খুনের পর সে পালিয়ে যায়। ভেবেছিল, দাদা হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে এলে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। রবিবার পরিচিতের কাছ থেকে জানতে পারে, পুলিশ তাকে খুঁজছে। তাকে সন্দেহ করছে। এরপর সে প্রথমে ঠিক করে আত্মহত্যা করবে। পরে মত বদলে থানায় আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তদন্তকারীদের কাছে সুমিত জানিয়েছে, স্ত্রী একজনের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিল। ওই ব্যক্তির সঙ্গে অনেক রাত অবধি মেসেজ ও ফোনে কথা বলত। সেটি সে জেনে ফেলে। এই নিয়ে তাদের মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হয়। স্ত্রী ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে না আসায় গোলমাল চরমে ওঠে। এরপরই পূজাকে খুনের সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার সে শ্বাসরোধ করে খুন করে স্ত্রীকে।