সংবাদদাতা, বনগাঁ: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে কুড়ুল দিয়ে গলা কেটে খুন করল স্বামী। রবিবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বাগদা থানার কোলা গ্রামে। মৃতার নাম অর্পিতা বিশ্বাস (২৮)। অভিযুক্ত স্বামী প্রসেনজিৎ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে বাগদা থানার পুলিস। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে রান্না করতে করতে ভিডিও কলে প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন স্ত্রী। তা দেখেই রাগ চরমে ওঠে স্বামীর। ক্রোধের বশে ঘরে থাকা কুড়ুল হাতে তুলে নিয়ে কোপ বসায় স্ত্রীর গলায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অর্পিতা বিশ্বাসের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বাগদা থানার পুলিস। পুলিস মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বনগাঁ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মৃতার বাবা প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা গিয়েছে, আট বছর আগে বাগদার কোলা গ্রামের বাসিন্দা প্রসেনজিতের সঙ্গে অশোকনগর থানা এলাকার বাসিন্দা অর্পিতার বিয়ে হয়। প্রসেনজিৎ পেশায় গাড়িচালক। তাঁদের ছ’বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্পিতার সঙ্গে এক যুবকের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা নিয়ে প্রসেনজিতের সঙ্গে স্ত্রীর ঝামেলা শুরু হয়। অশান্তি চরমে উঠলে দু’জনকে নিয়ে একাধিকবার আলোচনায় বসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দুই পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ, তাসত্ত্বেও প্রেমিকের সঙ্গে ঘর বাঁধার আশায় অর্পিতা স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। প্রায়ই এই গৃহবধূ প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার হুমকি দিতেন। প্রসেনজিতের মা সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘সম্পর্ক নিয়ে বউমা ও ছেলের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হতো। বউমা অন্য একটি লোককে ভালবাসত। ছেলেকে বলত, তোকে আমি ছাড়তে পারলেও প্রেমিককে পারব না। এদিন সকালে ছেলে ও বউমার মধ্যে ঝামেলা হয়। ছুটে এসে দেখি বউমা পড়ে আছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা গোকুল মণ্ডল বলেন, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর প্রায়ই ঝামেলা হতো। আমরা কয়েকবার আলোচনা করে মিটিয়ে দিয়েছিলাম। কিছুদিন ঠিকঠাক ছিল। আজ প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলা নিয়ে ফের অশান্তি হয়। সেই সময় স্বামী কুড়ুল দিয়ে অর্পিতার গলায় কোপ মারে।’