Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সন্দেহের বশে স্ত্রীকে নৃশংস খুনের পর ছেলেকে নিয়ে পলাতক স্বামী, চাঞ্চল্য

স্ত্রীকে শ্বাসরোধের পাশাপাশি হাতের শিরা কেটে খুনের পর ছেলেকে নিয়ে চম্পট দিল স্বামীর। শনিবার মধ্যরাতে ঘোলার ৩ নম্বর আজাদহিন্দ নগরের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সন্দেহের বশে স্ত্রীকে নৃশংস খুনের পর ছেলেকে নিয়ে পলাতক স্বামী, চাঞ্চল্য
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: স্ত্রীকে শ্বাসরোধের পাশাপাশি হাতের শিরা কেটে খুনের পর ছেলেকে নিয়ে চম্পট দিল স্বামীর। শনিবার মধ্যরাতে ঘোলার ৩ নম্বর আজাদহিন্দ নগরের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা নাথ (২৬)। অভিযুক্ত স্বামী সুকান্ত নাথ ও দম্পতির দশ বছরের ছেলের এখনও হদিশ পায়নি পুলিস। তদন্তকারীদের ধারণা, ছেলেকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে সুকান্ত। পুলিস গৃহবধূর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ওই ঘরটিও সিল করে দিয়েছে। সুকান্ত ও তাঁর ছেলের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকান্ত ও প্রিয়াঙ্কা প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। সুকান্ত পেশায় গাড়িচালক। তাঁর নিজের গাড়ি রয়েছে। বিয়ের পর কয়েক বছর যেতে না যেতেই তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। বছর দুয়েক আগে তাঁরা ৩ নম্বর আজাদহিন্দ নগরের বটতলা এলাকায় একটি একতলা বাড়ি কিনে থাকতে শুরু করেছিলেন। সুকান্ত গাড়ি চালিয়ে যা আয় করতেন, তাতে ঠিকমতো সংসার চলছিল না। তাছাড়া বাড়ি কিনতে গিয়ে ধারদেনাও হয়েছিল। তাই প্রিয়াঙ্কা সম্প্রতি ঘোলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি পলিক্লিনিকে কাজ শুরু করেছিলেন। তারপর থেকেই সুকান্ত স্ত্রীকে সন্দেহ করতে শুরু করেন। তাঁর ধারণা, প্রিয়াঙ্কা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। সেকারণে স্ত্রীর যাতায়াতের পথে নজরদারি শুরু করেছিলেন স্বামী। এনিয়ে সমস্যা চরমে উঠলে তিনি স্ত্রীকে মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ। প্রায় দেড় মাস আগে গৃহবধূ স্বামীর সংসার ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। এরপর শ্বশুরের অনুরোধে গত বৃহস্পতিবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন প্রিয়াঙ্কা। শনিবার রাতে বাপের বাড়ির লোকজন প্রিয়াঙ্কাকে ফোন করলে সুইচড অফ পাওয়া যায়। মোবাইল বন্ধ দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। রাতেই তাঁরা ওই বাড়িতে এসে দেখেন, দরজা তালা বন্ধ। এরপর পিছনের দিকের জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন, ঘরের মধ্যে রক্ত পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দরজা ভেঙে ঢুকে খাটের নীচে থেকে গৃহবধূর অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার করেন।
তদন্তকারীদের অনুমান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে খুনের ঘটনা ঘটেছে। কারণ, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সুকান্তকে দরজায় তালা বন্ধ করতে দেখেছেন আশপাশের লোকজন। তখন ছেলে সঙ্গে ছিল না। মনে করা হচ্ছে, আগেই ছেলেকে অন্য কোথাও রেখেছেন তিনি। পরিকল্পনা করেই প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে দু’হাতের শিরা কেটে দেহ খাটের তলায় ঢুকিয়ে দেন স্বামী। 
প্রিয়াঙ্কাদেবীর দাদা সৌম্য সরকার বলেন, আমরা বোনকে আর শ্বশুরবাড়িতে পাঠাব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বোনের শ্বশুরের অনুরোধ পাঠাতে বাধ্য হয়েছিলাম। কিন্তু ওকে নৃশংসভাবে খুন হতে হবে ভাবিনি। ভাগ্নেকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছি। বারাকপুরের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (সেন্ট্রাল) ইন্দ্রবদন ঝাঁ বলেন, পলাতক স্বামীর খোঁজে তল্লাশি চলছে।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ