Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

শয়ে শয়ে শূন্যপদ, দেশবাসীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ তলানিতে, সংসদীয় কমিটির বিস্ফোরক রিপোর্ট, তুলোধনা কেন্দ্রকে

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে নিজেদের রিপোর্টে তুলোধনা করল স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে স্বাস্থ্যে দেশবাসীর জন্য কম বিনিয়োগ, কোটি কোটি টাকা খরচ না হওয়া, শূন্যপদ—রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরে চাঁচাছোলা ভাষায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মোদি সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরেছে সেই রিপোর্ট।

শয়ে শয়ে শূন্যপদ, দেশবাসীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ তলানিতে, সংসদীয় কমিটির বিস্ফোরক রিপোর্ট, তুলোধনা কেন্দ্রকে
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে নিজেদের রিপোর্টে তুলোধনা করল স্বাস্থ্য বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে স্বাস্থ্যে দেশবাসীর জন্য কম বিনিয়োগ, কোটি কোটি টাকা খরচ না হওয়া, শূন্যপদ—রীতিমতো পরিসংখ্যান তুলে ধরে চাঁচাছোলা ভাষায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মোদি সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরেছে সেই রিপোর্ট। খুঁতগুলি দূর করতে কী কী করা উচিত, সেই সুপারিশও রয়েছে ৩২৬ পাতার রিপোর্টে। ১৮ মার্চ রাজ্যসভা ও লোকসভায় পেশ করা হয়েছে রিপোর্টটি। সেখানে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ২০১৭ সালে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ঘোষণা করেছিল। জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় গড় উৎপাদনের (জিডিপি) ২.৫ শতাংশ স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করা হবে (প্রায় ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা)। সেই লক্ষ্যপূরণ দূর-অস্ত, বর্তমানে জাতীয় গড় উৎপাদনের মাত্র ০.২৬ শতাংশ  বিনিয়োগ হচ্ছে স্বাস্থ্যে! 

Advertisement

রিপোর্টে বলা হয়েছে, আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে, বছর বছর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। যেমন ২০২২-২৩ সালে ছিল ৮৩ হাজার কোটি টাকা, ২৩-২৪ সালে ৮৬ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ সালে ৯৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা এবং ২৬-২৭ মানে চলতি অর্থবর্ষে ১ লক্ষ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। কমিটির প্রশ্ন, বাজেট বরাদ্দ ৬ শতাংশ বেড়েছে বলে উৎসাহিত হওয়ার মোটেই কিছু নেই। কারণ, এই বৃদ্ধি মোটেও যথেষ্ট নয়। একদিকে দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতিও বছরে গড়ে ৫ শতাংশ। তাহলে আখেরে স্বল্প বাজেট বৃদ্ধি করে দেশবাসীর লাভের লাভ কী হল? 
সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি আরও অসংখ্য বিষয় তুলে ধরেছে, যা মোদি সরকারের কাছে রীতিমতো ‘অস্বস্তির’ হতে পারে। রিপোর্টে তারা জানিয়েছে, একদিকে চাহিদার তুলনায় স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ রীতিমতো কম, অন্যদিকে আবার যেটুকু বিনিয়োগ, তার মধ্যেও কোটি কোটি টাকা খরচ হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের ‘সেক্রেটারিয়েট’ শাখায় ২০২২-২৩ সালে আনুমানিক বজেট ধরা হয়েছিল ৮০ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। পরে পরিবর্তিত হয়ে তা হয় ৭২.৪৫ কোটি টাকা। বাস্তবে খরচ হয় অনেকটাই কম। মাত্র ৬২.৬৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ সালে এই তিন ধরনের খরচের হিসাব ছিল যথাক্রমে ১০২ কোটি, ৮৫ কোটি এবং ৬৯.৬০ কোটি। আনুমানিক বাজেট যা ধরা হচ্ছে, তার তুলনায় অনেক কম খরচ হচ্ছে প্রত্যেক আর্থিক বছরে। বাকি টাকার কী হচ্ছে? কেন পড়ে থাকছে? প্রশ্ন তুলেছে কমিটি। 
মন্ত্রকের গ্রুপ এ, বি, এবং সি—এই তিন ধরনের পদই প্রচুর সংখ্যায় ফাঁকা পড়ে আছে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে। তারা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মন্ত্রকের তিন ধরনের অফিসার মিলিয়ে মোট অনুমোদিত পদ ছিল ১৪৬৭টি। অথচ ‘ইন পজিশিন’ বা বাস্তবে ছিলেন মাত্র ১০৮৭ জন। শূন্যপদের সংখ্যা ৩৮০। ২৫ শতাংশ! বহু নতুন অফিসার হয় মন্ত্রকের 
কাজে যোগ দিচ্ছেন না, নয়তো যোগ দিয়েও পদত্যাগ করছেন। এমনটাই বা হবে কেন—সরাসরি প্রশ্ন করেছে সংসদীয় কমিটি।

সম্পর্কিত সংবাদ