নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বজবজ: জমি জালিয়াতি চক্রের অন্যতম নাটের গুরু আবদুল্লা খান শাসকদলের অনুমোদনপ্রাপ্ত মুহুরি সংগঠনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম করে যাচ্ছিলেন। মগরাহাট ১ নম্বর ব্লকের ভূমি সংস্কার অফিস কার্যত তাঁর অঙ্গুলিহেলনে চলত বলে অভিযোগ। সাধারণ মানুষের অনেকেরই মত, বৈধ রায়তরা জমি জালিয়াতি সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ নিয়ে ভূমি সংস্কার অফিসে গেলে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হতো। পুলিসি তদন্তে এমনটাই সামনে এসেছে। পুলিস জানতে পেরেছে, এখনও পর্যন্ত জমি জালিয়াতির শ’খানেক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সবক’টিতেই অভিযুক্ত হিসেবে আবদুল্লার নাম রয়েছে।
ধৃত আবদুল্লা নকল সিলমোহর তৈরি করে ভুয়ো নথি তৈরিতে সিদ্ধহস্ত। তাঁর বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া সেই সব সিলমোহরই তার প্রমাণ। তদন্তে জানা গিয়েছে, সরকারি প্রকল্পের জন্য কোথাও জমির প্রয়োজন হলে সেখানে গিয়েও বাগড়া দিতেন আবদুল্লা। কারণ একটাই, ব্যক্তিগত স্বার্থে ওই জমি হাতিয়ে নেওয়া। জনস্বাস্থ্য দপ্তর জলপ্রকল্পের জন্য জলাধার নির্মাণ করতে চেয়েছিল। এই প্রকল্পের জন্য কয়েকজন গ্রামবাসী নিঃশর্তে জমি দিয়েছিলেন। ঠিক হয়েছিল, জমিদাতাদের পরিবারের দু’জনকে ঠিকাদারের অধীনে কাজ দেওয়া হবে। আবদুল্লা খান সেই সময় হস্তক্ষেপ করেন এবং দলবল নিয়ে এসে জলাধার নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। টানা এক বছর ধরে পুলিস, প্রশাসন ও তৃণমূল নেতৃত্ব দফায় দফায় আলোচনা করলেও আবদুল্লাকে বাগে আনতে পারেনি। ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, কিছুদিন আগে পুলিসি হস্তক্ষেপে এই সমস্যার সমাধান হয়েছে। এই বাধার কারণে জলাধার নির্মাণের কাজ শেষ হতে অনেকটাই দেরি হবে।