ইনস্টাগ্রাম এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে ফাঁদ নারী পাচারচক্রের
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: ইনস্টাগ্রাম ও অনলাইন ভিডিয়ো গেমে ফাঁদ পেতেছে নারী পাচারচক্র।  দুই ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় নাবালিকা ও তরুণীরা তাদের টার্গেট। ইনস্টাগ্রামে বন্ধুত্ব বা অনলাইন গেমের সময় ভাব জমিয়ে মডেল হওয়ার প্রলোভন সহ বহুজাতিক সংস্থায় কাজের টোপ দিয়ে নারী পাচার হচ্ছে ভিন রাজ্যে। এমনকি বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। তাদের পাচারের জন্য গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে হাওড়া স্টেশনকে। বিগত কয়েকমাসে শতাধিক নাবালিকা-তরুণী উদ্ধার হওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমনই তথ্য পাচ্ছে আরপিফের হাওড়া শাখার অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট (এএইচটিইউ)। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন তারা। পাচার চক্রের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি তল্লাশির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আরপিএফের এএইচটিইউ ইউনিট তৈরির পর বিগত তিন মাসে হাওড়া স্টেশন থেকে একশোর বেশি নাবালিকা ও তরুণী উদ্ধার হয়েছে। ভিন রাজ্যের ট্রেন ধরতে আসা তরুণী বা নাবালিকাদের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় আরপিএফের। কথাবার্তা বলতেই রেলরক্ষী বাহিনীর  অফিসাররা বুঝতে পারেন, তাদের পাচারের উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে। সেই চেষ্টা ব্যর্থ করার পাশাপাশি ‘ভিকট্রিম’দের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে পরিবারের কাছে। ভিকট্রিমদের সঙ্গে কথা বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। জানা যাচ্ছে, এই নাবালিকা ও তরুণীরা আসছে সুন্দরবন, ক্যানিং, হাবড়া,বনগাঁ, কৃষ্ণনগর, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে। এমনকি অসম, ত্রিপুরা সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও আসছে।  সকলেরই ইনস্টাগ্রামে প্রোফাইল রয়েছে। এদের একটা বড় অংশের আবার অনলাইন ভিডিও গেম খেলার নেশা রয়েছে। কথা প্রসঙ্গে উদ্ধার হওয়া কিশোরী, তরুণীরা অফিসারদের জানিয়েছে, ইনস্টাগ্রাম বা অনলাইন গেম খেলতে গিয়েই তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে একাধিক যুবকের। ওই যুবকরা কেউ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত চাকুরে বা বড় ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়েছে। বন্ধুত্ব  জমে ওঠার পর হয়েছে মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান। তারপর অনেক রাত পর্যন্ত চলেছে মেসেজ আদানপ্রদান। কথার ফাঁদে ফেলে তাদের টোপ দেওয়া হয়েছে মডেলিং বা সিনেমা জগতে নামানোর। আবার কাউকে বলা হয়েছে ভিন রাজ্যে এমনকি বিদেশে বড় বেতনের চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। বিয়ে করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে অনেককে। তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, আসলে গোটাটাই নারী পাচারচক্রের পরিকল্পনা। অনলাইন ভিডিয়ো গেমে নাম লিখিয়ে এভাবেই কিশোরী বা তরুণীকে তোলার টার্গেট নিয়েছে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে প্রোফাইল খুলে সেখানে নাবালিকাদের মগজ ধোলাই করে পরিবারের কাছ থেকে বের করে নিয়ে আসছে। এদের ভিন রাজ্যে পাঠানোর জন্য হাওড়া স্টেশনকেই ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। তবে চক্রের মাথারা নয়, দালালরাই এই সমস্ত নাবালিকাদের স্টেশন থেকে  সংগ্রহ করে পৌঁছে দিচ্ছে কিংপিনের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন গেমিংয়ের সূত্র ধরে চক্রের পাণ্ডাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।