


ঢাকা: ১৭ বছর লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে জন্মভূমিতে ফিরেই বাজিমাত! তারেক রহমানের হাত ধরে ২০ বছর পর ফের বাংলাদেশের ক্ষমতায় এল বিএনপি। তাও আবার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন জিতে। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শেষবার জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়েছিল জিয়াউর রহমানের দল। তাঁর প্রয়াণের দেড়মাসের মধ্যে পুত্র তারেকের হাত ধরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হল। সদ্য প্রয়াত খালেদার জন্য বাঁধভাঙা আবেগে ভর করেই এসেছে এই বিপুল জয়। সঙ্গে ছিল আওয়ামি লিগের ভোটারদের আংশিক সমর্থনও। তার জেরে ৩৬ বছরে এই প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে চলেছে পদ্মাপারের দেশ। তারেককে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছে চীন, পাকিস্তানও।
শুক্রবার বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনেই জিতেছে বিএনপি। জোটসঙ্গীরা পেয়েছে আরও তিনটি। অর্থাৎ, বিএনপি জোটের মোট আসন ২১২। ৬৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে জামাত। তাদের সঙ্গে জোট গড়েছিল ছাত্রদের দল এনসিপি সহ আরও ১০টি রাজনৈতিক সংগঠন। সেই ১১ দলের জোটের দখলে ৭৭টি আসন। তবে খালেদা-পুত্রের শপথগ্রহণ নিয়ে কিঞ্চিৎ জটিলতা রয়েছে। সংসদের বর্তমান স্পিকার আত্মগোপন করেছেন, ডেপুটি স্পিকার কারাবন্দি। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার কিংবা রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠ করাবেন। না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ফলে তারেকের শপথ হতে পারে মঙ্গলবার। তার আগে কোনো বিজয় মিছিল হচ্ছে না। এদিন জুম্মার নামাজে প্রার্থনার আর্জি জানানো হয়েছিল বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের কাছে। মসজিদে যাওয়ার সময় জনতার উদ্দেশে খালেদা-পুত্র বলেন, ‘আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগান দিয়েই সংসদ নির্বাচনে লড়াই শুরু করেছিলেন তারেক। অথচ মাসখানেক আগেও তাঁর দেশে ফেরা নিশ্চিত ছিল না। মায়ের অবর্তমানে দলের নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নেন তারেক। জানান, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ বাংলাদেশের মানুষের রায়ে স্পষ্ট, খালেদা-পুত্রের সেই ‘প্ল্যানে’র উপরই ভরসা রেখেছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুরু হয় গণনা। রাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল ধানের শিষ প্রতীকেই আস্থা রেখেছে বাংলাদেশ। দু’টি আসনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও মামলার জন্য ফল ঘোষণা হয়নি। সবচেয়ে খারাপ দশা হাসিনা বিরোধী পড়ুয়াদের দল এনসিপির। জামাতের সঙ্গে জোট করে তারা ৩০টি আসনে লড়াই করেছিল। মাত্র ৬টিতে জয় এসেছে। হার নিশ্চিত বুঝেই ভোটে অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগ তুলেছে জামাত। বলেছে, ‘সংসদে আমরা যাব না।’