তারাপীঠে আবির্ভাব তিথি ও কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ঘিরে পুণ্যার্থীদের ঢল
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দেবী দুর্গার বিদায়ে আকাশ-বাতাস যখন ভারাক্রান্ত, ঠিক তখনই একই দিনে যমজ উৎসবের আনন্দে মেতে উঠতে চলেছে সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ। আগামী রবিবার তারামায়ের আবির্ভাব তিথি এবং কোজাগরি লক্ষ্মীপুজো। এই তিথি উপলক্ষে দেশ-বিদেশের ভক্ত সমাগমে এখন থেকেই মুখরিত তারাপীঠ। শক্রবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। চলতি বছর তারাপীঠে আবির্ভাব তিথির পুজোয় রয়েছে এক বিশেষ সংযোজন। মূল গর্ভগৃহের সংস্কার কাজ চলায় এতদিন দেবী তারা পাশের শিবমন্দিরে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তবে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাতের মধ্যেই গর্ভগৃহের সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে এবং শনিবারই বেদি শুদ্ধিকরণের বিশেষ পুজো করা হবে। 

Advertisement

চিরাচরিত রীতি মেনে শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে সূর্যোদয়ের পর তারামাকে বিশ্রাম মন্দিরে নিয়ে আসা হবে। তিনি সেখানেই বিরাজ করবেন এবং ভক্তরা সরাসরি তারামাকে স্পর্শ করে পুজো দেওয়ার সুযোগ পাবেন।  লোককথা অনুযায়ী, বাংলা ১১০৮ (ইংরেজি ১৭০১) সালে তৎকালীন তান্ত্রিকদের অসতর্ক আচরণে মুলুটির নানকার রাজা রাখরচন্দ্র অভিমান করে ফিরে যান। পরে মা তারা প্রধান তান্ত্রিক আনন্দনাথকে স্বপ্ন দিয়ে নির্দেশ দেন, রাখরচন্দ্র তাঁর ভক্ত, তাই যেন তাঁকে মুলুটির মা মৌলিক্ষার মন্দিরের দিকে মুখ করে বসানো হয়। সেই থেকে প্রতিবছর এই তিথিতে বিশ্রাম মঞ্চে মাকে পশ্চিমমুখী করে পুজো করার প্রথা চলে আসছে। বছরের একমাত্র এই দিনে দুপুরে মায়ের অন্নভোগ হয় না। সেবাইতরাও উপবাস থাকেন। দুপুরে কেবল লুচি, সুজি ও মিষ্টি ভোগ নিবেদন করা হয়।
মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় দেবীকে নতুনভাবে সজ্জিত মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে আনা হবে এবং সেখানে লক্ষ্মীরূপে পুজো করা হবে। 
রাতে খিচুড়ি, পোলাও, পাঁচরকম ভাজা, মাছ ও মাংস দিয়ে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হবে এবং সেই প্রসাদ গ্রহণ করেই সেবাইতরা তাঁদের উপবাস ভাঙবেন। আবির্ভাব তিথিতে পুরো মন্দির চত্বর রকমারি আলোয় বর্ণময় করে তোলা হবে। একসময় এই তিথিতে বড়সড় মেলা বসত। বর্তমানে জায়গার অভাবে সেই জৌলুস কিছুটা কমলেও, ভক্তদের উদ্দীপনা ও সমাগম প্রতিবছর বেড়ে চলেছে।