নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাশ করেছেন তমলুকের দেবারতি জানা। ২০২৪সালে কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ সৌপ্তিক মৈত্র। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন ক্যাম্পাসে অ্যাকাউন্টেন্সি বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করছেন শুভদীপ গিরি। তাঁর বাড়ি তমলুক শহরের হ্যামিল্টন স্কুলপাড়ায়। উচ্চ শিক্ষিত ওই বেকার যুবক-যবুতীরা চাকরির চেষ্টা করার পাশাপাশি ভরসা রাখলেন রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পে। রবিবার তমলুক পুরসভার মহেন্দ্রস্মৃতি সভাকক্ষে যুবসাথীর ফর্ম তোলা ও জমা করার জন্য বিরাট ভিড় ছিল। সেই ভিড়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীদের পাশাপাশি বহু উচ্চ শিক্ষিতদের ফর্ম হাতে লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেল।
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পূর্ব মেদিনীপুরে ৩১টি জায়গায় ক্যাম্প করে যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, খেত মজুরদের আর্থিক সহায়তার জন্য ক্যাম্প করে আবেদন নেওয়া শুরু হল। এদিন জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল তমলুক পুরসভা সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প ভিজিট করেন। মোট চারটি স্কিমের জন্য আবেদন নেওয়া হলেও মূলত যুবসাথী ক্যাম্পে ভিড় বেশি। কর্মহীন ২১-৪০বছর বয়সিদের মাসে ১৫০০টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রকল্পে এমএ, এমএসসি, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ যুবক-যুবতীরাও আবেদন করছেন।
তমলুক পুরসভার ১৩নম্বর ওয়ার্ডের পার্বতীপুরের বাসিন্দা দেবারতি জানা যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি করেছেন। প্রাইভেটে পড়ান। সরকারি চাকরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু, এখনও সফল হননি। এই অবস্থায় যুবসাথী স্কিমে আবেদন করেছেন। তমলুক পুরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের পদুমবসানের সৌপ্তিক ২০২৪সালে কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট কলেজ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন। কিন্তু, চাকরির ব্যবস্থা হয়নি। রবিবার সৌপ্তিকের বাবা বলেন, ছেলে চাকরির চেষ্টা করছে। কিন্তু, যুবসাথীর সুবিধা নিতে কোনও সমস্যা নেই। তাই ছেলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পোস্ট গ্র্যাজুয়েটে পাঠরত শুভদীপ বলেন, অ্যাকাউন্টেন্সি সাবজেক্ট নিয়ে পড়ছি। মাসে দেড় হাজার টাকা পেলে পড়াশোনার খরচের অনেকটাই উঠে আসবে। এটা নিয়ে সংসার চালাব এরকম ধারণা রাখা ঠিক নয়। বরং পড়াশোনা এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য এই টাকা ঠিকমতো খরচ করলে সেটা আমাদের মতো বেকার ছেলেমেয়েদের কাছে সহায়ক হবে।
তমলুক পুরসভার ১৩নম্বর ওয়ার্ডে পার্বতীপুরের অলিভিয়া দত্ত আইসিএসই বোর্ডে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। স্নাতক পাশ করার পর বাড়িতে বসে আছেন। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত যুবসাথীতে ভরসা রেখেছেন অলিভিয়া। এদিন ১৩নম্বর ওয়ার্ড থেকেই গণেশ বেরা, প্রশান্ত দত্তের মতো গ্র্যাজুয়েট যুবকরাও যুবসাথীর লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, মাসে ১৫০০টাকায় সংসার চলে না। কিন্তু, রাজ্য সরকারের দেওয়া এই টাকা স্বনির্ভর হওয়ার পথে খরচ করলে অসুবিধা কোথায়? এনিয়ে অযথা সমালোচনা হওয়া ঠিক নয়।
রবিবার তমলুক পুরসভার ওই ক্যাম্পে পুরসভার চেয়ারম্যান বৈদ্যনাথ সিনহা, ভাইস চেয়ারপার্সন সুফিয়া বেগম, প্রাক্তন চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়, চঞ্চল খাঁড়া সহ অনেক কাউন্সিলার ছিলেন। বৈদ্যনাথবাবু বলেন, প্রথম দিনে ক্যাম্পে ভীষণ সাড়া পড়েছে। রেজিস্ট্রেশন, ফর্ম তোলা, ফর্ম জমার জন্য পৃথক কাউন্টার করা হয়েছে। কাউন্সিলার ও আমাদের কর্মীরা দাঁড়িয়ে থেকে আবেদনকারীদের গাইড করে দিচ্ছেন।