Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬

ওড়িশায় ভোটের অঙ্কে বিস্তর গরমিল! প্রশ্নের মুখে কমিশন

গণনার সময় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বদলে দিয়েই কি ওড়িশায় বিধানসভা নির্বাচনে জিতছে বিজেপি? ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নির্বাচন কমিশনও? চব্বিশের লোকসভা-বিধানসভার ভোট একসঙ্গে হহয়েছিল ওড়িশায়। বিশ্লেষাত্মক অনুসন্ধানে নেমে সম্প্রতি  ভোট নিয়ে সন্দেহজনক কিছু তথ্যই তুলে ধরে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইংরেজি পত্রিকা ‘ফ্রন্টলাইন।’

ওড়িশায় ভোটের অঙ্কে বিস্তর গরমিল! প্রশ্নের মুখে কমিশন
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: গণনার সময় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বদলে দিয়েই কি ওড়িশায় বিধানসভা নির্বাচনে জিতছে বিজেপি? ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নির্বাচন কমিশনও? চব্বিশের লোকসভা-বিধানসভার ভোট একসঙ্গে হহয়েছিল ওড়িশায়। বিশ্লেষাত্মক অনুসন্ধানে নেমে সম্প্রতি  ভোট নিয়ে সন্দেহজনক কিছু তথ্যই তুলে ধরে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইংরেজি পত্রিকা ‘ফ্রন্টলাইন।’ কয়েকটি বুথে ভোটের হার আর গণনায় ফারাকের দাবি করা হয়েছে। তাতেই সন্দেহ দানা বাঁধছে। নির্বাচন কমিশনের অবশ্য সপাট জবাব, ইভিএমে কোনও কারসাজি করা যায় না। পালটে দেওয়ার তো কোনও সুযোগই নেই! তবু সংশয় কাটছে না। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার দেশের শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সাফ মন্তব্য, ‘কবে থেকেই তো বলছি ভোট চুরি করেই জিতছে বিজেপি। হরিয়ানাই তার বড় প্রমাণ!’

Advertisement

২০০০ সাল থেকে চলে আসা বিজু জনতা দলের (বিজেডি) সরকারের পতন হয়েছে গত বছর। নবীন পট্টনায়কের মতো জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রীকেও কুর্সি হারাতে হয়েছে। লোকসভার ২১ আসনের মধ্যে ২০টি জিতেছে বিজেপি। একটি কংগ্রেস। বিজেডি শূন্য। বিধানসভার ১৪৭ আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ৭৮। বিজেডি ৫১। এমন অবিশ্বাস্য ফলাফলেও কিছু গরমিল ধরা পড়েছে। ভোটের দিন বুথে যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর এজেন্ট বসেন, তাঁদের দেওয়া হয় ফর্ম ১৭সি। তাতে লেখা থাকে, নির্দিষ্ট বুথে কত ভোট পড়ল। আর গণনার দিন দেওয়া হয় ফর্ম ২০। সেখানে লেখা হয়, কোনও বুথে কত ভোট গণনা হল। অভিযোগ, এই দুই ফর্মের পরিসংখ্যানে মিলেছে অমিল। উদাহরণ তুলে ধরে বিজেডির দাবি, ফুলবাণী বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৭ নম্বর বুথে ফর্ম ১৭সি এবং ফর্ম ২০-র মধ্যে ৬৮২ ভোটের ফারাক। স্রেফ ফুলবাণী নয়, ওড়িশার ১৪৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৮টি বুথে ভোট পড়া এবং গণনায় সংখ্যার পার্থক্য ধরা পড়েছে। কোথাও হিসেবের গরমিল একটি ভোটের, তো কোথাও ৯০৮! এপ্রসঙ্গে তৃণমূলের সৌগত রায় বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কোনও কিছুই সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। ইভিএম পালটেও দিতে পারে। কমিশনের কাজ আজকাল অস্বচ্ছ। তাই তো আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআরের প্রতিবাদ করে কমিশনের অস্বচ্ছতা তথা বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ করছেন।’ ভোটে হারার পর কমিশনের কাছে সন্দেহজনক এবং অবিশ্বাস্য ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল বিজেডি। কিন্তু কমিশন কর্ণপাত করেনি বলেই অভিযোগ।

কী ছিল সেই অভিযোগের তালিকায়? তালসারা বিধানসভা কেন্দ্রের ১৬৫ এবং ২১৯ বুথ নম্বর ফর্ম ১৭সি অনুযায়ী ভোট দিয়েছিলেন মোট ১ হাজার ৪৪৪ জন। কিন্তু ফর্ম ২০ বলেছেন, প্রাপ্ত ভোট শূন্য। কুচিন্দা কেন্দ্রের ৫৩ নম্বর বুথে ৬২৭ জন ভোট দেওয়ার পরেও গণনায় তা হয়েছে শূন্য। কোথাও আবার উলটো চিত্র। পদ্মপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ১৪টি বুথে ফর্ম ১৭সি অনুযায়ী ভোট পড়েছিল ৮২। কিন্তু গণনায় তা হয়ে গিয়েছে ৯ হাজার ৩০৪। অতিরিক্ত ৯ হাজার ২২২টি ভোট কোথা থেকে এল? উত্তর মেলেনি। একইভাবে ঢেঙ্কানল কেন্দ্রে লোকসভার তুলনায় বিধানসভায় ৪ হাজার ৫৬টি ভোট বেশি পড়েছে। আবার কন্ধমাল কেন্দ্রে লোকসভায় ভোট পড়েছে বিধানসভার তুলনায় ৩ হাজার ৫২১টি বেশি। একইদিনে একই ঘরে লোকসভা-বিধানসভার ভোটদান হয়েছে। ফলে বিস্ময় বেড়েছে বই কমেনি! আরও আশ্চর্যজনক তথ্য হল, ভোটদানের হারও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে গণনার পর। লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে তা বেড়েছে ৭-১৭ শতাংশ। বিধানসভায় ৮.৫৪-৩০.৬৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি এমন প্রবণতা দেখা গিয়েছে কেওনঝাড়ে, যেখান থেকে জিতে বর্তমানে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি। ফলে কমিশনের কাজে ধোঁয়াশার অভিযোগ জারিই থাকছে রাজনৈতিক মহলে।

সম্পর্কিত সংবাদ