সংবাদদাতা, মানকর: ইঁদুর দৌড়ের যুগে বাড়িতে নাড়ু বানানোর ঝক্কি অনেকেই নিতে রাজি নন। তাই মানকর, বুদবুদ, পানাগড়ের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে রেডিমেড নাড়ু কিনতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে আসা অতিথিদের নাড়ু দিয়ে মিষ্টিমুখ করানো বাঙালি পরিবারের চিরকালীন রীতি। এখন বাড়িতে নারকেল, তিল, বেসনের নাড়ু তৈরির সময় অনেকেই পান না। তাই রেডিমেডই ভরসা। মিষ্টির দোকানের পাশাপাশি দশকর্মা ভাণ্ডারেও প্যাকেটবন্দি নাড়ু বিক্রি হচ্ছে। মানকর স্টেশনবাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী তরুণ পাল বলেন, দুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো, সবেতেই নাড়ুর ভূমিকা অপরিহার্য। মূলত সিঁড়ির নাড়ুর বিক্রি বেশি। বাজারে দু’রকম সিঁড়ির নাড়ু বিক্রি হচ্ছে। একধরনের নাড়ুর দাম কেজি প্রতি ১৬০টাকা। তার চেয়ে একটু ভালো মানের নাড়ুর দাম ১৮০টাকা কেজি। বোঁদে বা চুনার নাড়ুর দাম ২০০টাকা কেজি। পানাগড়ের এক মিষ্টি ব্যবসায়ী জানান, প্রায় ছয় কুইন্টাল নাড়ু তৈরি করেছি। চারজন কারিগর পুজোর আগে থেকেই নাড়ু তৈরিতে লেগে গিয়েছেন। গলসির প্রৌঢ় বিপদতারণ ভট্টাচার্য বলেন, একসময় বাড়িতে বিভিন্ন রকমের নাড়ু তৈরি হতো। কিন্তু এখন একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে যাওয়ায় একজন বা দু’জনের পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ নাড়ু তৈরিতে কায়িক শ্রম অনেকটাই লাগে। আর এখনকার বাজারে নাড়ু তৈরি করতে যা খরচ, রেডিমেড কিনলে তার চেয়ে কমই টাকা লাগে। গৃহবধূ অপর্ণা সরকার বলেন, ঠিকমতো পাক দিতে না নাড়ুর স্বাদ ভালো হবে না। এই পাকের উপরই নির্ভর করে, নাড়ু করতটা নরম বা শক্ত হবে। তাই নাড়ু তৈরিতে রীতিমতো দক্ষ না হলে বাড়িতে তৈরি করা যায় না। এসবের কারণেই রেডিমেড নাড়ুর চাহিদা বেড়েই চলেছে।



