নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জোর কদমে চলছে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের কাজ। প্রায় একই সময়ে কয়েক হাজার পাকাবাড়ি নির্মাণ শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে ইটের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। গুণমানের দিক থেকে বসিরহাটের ইটের যথেষ্ট নামডাক আছে। জেলার পাশাপাশি ভিন রাজ্যেও এই ইটের সুনাম রয়েছে। এই আবহে বসিরহাটজুড়ে বাড়বাড়ন্ত হয়েছে মাটি মাফিয়াদের। জমি থেকে মাটি কেটে দিনের আলোয় মাথায় করে নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ১০০ দিনের কাজের মতো মজুরি পাচ্ছেন কর্মীরা। সেই সঙ্গে নদী থেকে সাদা বালি তুলে পাচার করা হচ্ছে দেদার। দু’টি ক্ষেত্রেই পুলিস ও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
হাসনাবাদ, বসিরহাট, সন্দেশখালি ও বাদুড়িয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে একের পর এক ইটভাটা। অনেক ক্ষেত্রে এলাকাগুলি বেশ প্রত্যন্ত হওয়ায় সেই অর্থে কোনও প্রশাসনিক নজরদারি থাকে না বলে অভিযোগ। সেই সুযোগই নিচ্ছে মাফিয়ারা। বসিরহাটজুড়ে কোথাও সরকারি বিধি ও নিয়মকানুন মেনে মাটি কাটা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ইট তৈরির কাঁচামালের জোগান দিতে যেমন খুশি বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। চাষের জমি থেকে মাটি তুলে ভাটায় পাচারের জন্য রীতিমতো সিন্ডিকেটও গজিয়ে উঠেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ৪০০টি ইটভাটা আছে। এর সিংহভাগই রয়েছে বসিরহাট মহকুমা এলাকায়। ইছামতী নদী সংলগ্ন আমলানি এলাকায় জমি থেকে মাটি তুলে মাথায় করে ভাটায় নিয়ে যাচ্ছিলেন রাজু মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে ২০০ মিটার দূরে ভাটা। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাটি কেটে জোগান দিই। ৪০০ টাকা মজুরি পাই প্রতিদিন। তবে, মাটি কাটার লোক আলাদা। মজুরিও আলাদা।’ আষাড়িয়া এলাকায় মাটি কাটার শ্রমিক জীবন দফাদার বললেন, ‘ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মাটি কাটি। রোজ পাই ৪৫০ টাকা। এই কাজে কোনও ঝক্কি নেই। মালিক সব ম্যানেজ করে রেখেছে। আমার মতো অনেকেই এই কাজ করছে।’
উল্লেখ্য, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ৮২ হাজার ১২৮ জন উপভোক্তা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের টাকা পেয়ে গিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট অংশের কাজ না শেষ করলে দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকা মিলবে না। তাই সব উপভোক্তাকেই কাজ শুরু করে দিতে হয়েছে। ফলে ইট সহ সমস্ত ইমারতি সামগ্রীর বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে বাজারে। মাটি মাফিয়া ও অসাধু কারবারিরা তারই সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইটভাটা মালিকদের অবশ্য দাবি, নিয়ম মেনে মাটি তোলা হচ্ছে। সরকারকে রাজস্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাটির পাশাপাশি সাদা বালি নদী থেকে তুলে পাচারের ক্ষেত্রেও কোনও নিয়ম মানা হয় না। এই দু’টি বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখা হবে। বসিরহাট পুলিস জেলার এক কর্তা বলেন, ‘এমন কোনও অভিযোগ নেই।’