Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পয়লা বৈশাখে তমলুকে বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দিতে ব্যাপক ভিড়

পয়লা বৈশাখের ভোর থেকেই তমলুক শহরে মা বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য লাইন পড়ে যায়। সেজন্য চৈত্রের শেষদিন সারারাত মন্দিরের মেইন গেট খোলা থাকে।

পয়লা বৈশাখে তমলুকে বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দিতে ব্যাপক ভিড়
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পয়লা বৈশাখের ভোর থেকেই তমলুক শহরে মা বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য লাইন পড়ে যায়। সেজন্য চৈত্রের শেষদিন সারারাত মন্দিরের মেইন গেট খোলা থাকে। ভোর ৫টায় পুজো দেওয়া শুরু হয়। পুজো দিতে আসা ভক্তদের লাইন এঁকে বেঁকে বহুদূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়। এবারও শয়ে শয়ে ভক্ত পুজোর ডালি নিয়ে উপস্থিত হন। বিশেষত এলাকার বহু ব্যবসায়ী হালখাতা পুজো দিতে এই মন্দিরে আসেন। মা বর্গভীমার আশীর্বাদ নিয়েই নতুন বছরের হিসেবনিকেশ শুরু করেন তাঁরা।

Advertisement

সবাই যাতে নির্বিঘ্নে পুজো দিতে পারেন, তার জন্য বর্গভীমা মাতা মন্দির কমিটি সবরকম আয়োজন রেখেছে। থানা থেকে বাড়তি পুলিসকর্মীর নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মন্দির কমিটির প্রায় ১৫জন স্বেচ্ছাসেবক ও ২০জন কর্মী থাকছেন। মন্দিরজুড়ে থাকা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমেও নজরদারি চলছে।
আসলে তমলুকবাসীর মা বর্গভীমা অভয়প্রদায়িনী। বন্যা, খরা, সাইক্লোন সহ যে কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মায়ের কৃপাতেই তাঁরা সুরক্ষিত থাকেন বলে তমলুকবাসী মনে করেন। তাই বাংলা নতুন বছর যাতে ভালোভাবে কাটে, সেই প্রার্থনা করার জন্য ভোর থেকে এই মন্দিরে পুজো দেওয়ার লাইন পড়ে যায়। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করে ভক্তরা পুজো দেন। সেইসঙ্গে ব্যবসায়ীরা নতুন বছরে তাঁদের নিজ নিজ ব্যবসায় লক্ষ্মীলাভের আশায় হালখাতা নিয়ে পুজো দিতে আসেন। এই বিশেষ দিনে অনেক ভক্ত দেবীর কাছে মানতও করেন।
প্রতিবছর পয়লা বৈশাখ বর্গভীমা মায়ের মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমাগম হয়। পয়লা বৈশাখে মন্দিরে ভক্তদের অন্নভোগ বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। কারণ, এবছর ১জানুয়ারি মন্দিরে ভোগ খাওয়ার জন্য প্রায় ৭০০জন কুপন কেটেছিলেন। বেলা দেড়টা-দু’টো নাগাদ দেবীর কাছে ভোগ নিবেদন করার পর অন্নভোগ বিতরণ হয়। ভোগ পেতে অপেক্ষারত ভক্তদের ভিড়ে মন্দিরে হাঁসফাঁস অবস্থা হয়। সেই ঘটনার পর পয়লা বৈশাখে ভিড়ের কথা মাথায় রেখে অন্নভোগ বিতরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্গভীমা মাতা মন্দির কমিটির সম্পাদক শিবাজী অধিকারী বলেন, ভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে পুজো ও অঞ্জলি দিতে পারেন, সেজন্য সবরকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পয়লা বৈশাখে বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমাগম হয়। এবারও তার অন্যথা হয়নি। থানা থেকে অতিরিক্ত ফোর্স থাকছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাও থাকছেন। সারারাত মন্দিরের প্রধান গেট খোলা রয়েছে। তবে ভোর ৫টায় মন্দিরের ভিতরের গেট খোলার পর পুজো শুরু হয়।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ