নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডোমজুড়ের নারনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বুবাই চক্রবর্তীকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় এলাকা। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাঁর বাড়ির কাছেই তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রচুর গাছ বোমা, সরকারি ত্রিপল, মশারি, কম্বল ও থান কাপড় উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ঘটনার পরেই পিপিলাই গ্রামের বাড়ি থেকে বুবাই চক্রবর্তীকে আটক করে ডোমজুড় থানার পুলিশ। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ এবং বুধবার সকালে দীর্ঘ তদন্তের পর দুপুরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বুবাই চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহার, পঞ্চায়েতের টাকা আত্মসাৎ, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখানো এবং বিভিন্ন সরকারি সামগ্রী অবৈধভাবে মজুতের অভিযোগ জমা পড়ছিল। পাশাপাশি ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। মঙ্গলবার রাতে উপপ্রধানের বাড়ির সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ কার্যত হতবাক হয়ে যায়। অভিযোগ, একটি বন্ধ ঘরের তালা খুলতেই দেখা যায়, একাধিক বস্তায় ভরে রাখা রয়েছে প্রচুর গাছ বোমা। পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি করে গাছ বোমা ছিল। এছাড়াও সেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল, মশারি, কম্বল এবং থান কাপড় পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি কীভাবে এল এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপপ্রধান প্রভাব খাটিয়েই ওই বিস্ফোরক ও সরকারি সামগ্রী মজুত করেছিলেন। তাঁদের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তোলাবাজি, হুমকি এবং দাদাগিরির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক অভিযোগ জমা পড়ার পরই পুলিশ সক্রিয় হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ডোমজুড়ের বিজেপি নেতা তথা এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা বলেন, ‘তৃণমূলের কয়েকজন নেতা ভোটে জয়ের পর বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল। সেকারণেই বোমা সহ নানা সামগ্রী মজুত করা হয়েছিল। পুলিশ অবশেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে।’ যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুবাই চক্রবর্তী। গ্রেপ্তারের সময় তিনি দাবি করেন, ‘আমি তৃণমূল করি বলেই বিজেপি আমাকে মিথ্যা মামলায়
ফাঁসিয়েছে।’