Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হাসিনাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ তত্ত্বাবধায়ক সরকার

হাসিনাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ঢাকা: শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে এবার ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হচ্ছে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। রবিবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সংস্কার কাজ তদারক করতে গিয়েছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেখানে তিনি বলেন, ‘খুব শীঘ্রই ইন্টারপোল রেড কর্নার নোটিস জারি করবে। ফ্যাসিবাদী নেতারা পালিয়ে বিশ্বের যে প্রান্তে গিয়েই লুকোক, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতে পেশ করা হবে।’ তিনি জানান, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও কয়েকজন ‘পলাতক’ আওয়ামি লিগ নেতার বিরুদ্ধেও তারা একই পদক্ষেপ নেবে। এদিকে, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার সংখ্যা আরও বাড়তে চলেছে। রবিবার আরও পাঁচজন উপদেষ্টা পদে শপথ নিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement
তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে আওয়ামি লিগও। মহম্মদ ইউনুস ও ৬১ জনের বিরুদ্ধে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন লিগের নেতা তথা সিলেটের প্রাক্তন মেয়র আনোয়ারাজ্জুমান চৌধুরী। ৬১ জনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সব উপদেষ্টা ও পড়ুয়া আন্দোলনের নেতারা রয়েছেন। আওয়ামি লিগের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় আনোয়ারাজ্জুমান জানিয়েছেন, পড়ুয়া আন্দোলনের নাম করে ৫ থেকে ৮ আগস্ট আওয়ামি লিগের সমস্ত নেতা-কর্মী, বাংলাদেশে বসবাসকারীরা হিন্দু-খ্রিস্টান ও পুলিসকর্মীরা বর্বর গণহত্যার শিকার হয়েছে। এই নিয়ে ৮০০ পাতার তথ্য আন্তর্জাতিক আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। 
রবিবার ঢাকার নূর হোসেন চত্বরে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল আওয়ামি লিগ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, ‘ফ্যাসিবাদী’ আওয়ামি লিগকে কোনও সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে না। কিন্তু সেই নিষোধাজ্ঞা উড়িয়ে এদিন রাস্তায় নামলেন আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকরা। তাদের ঠেকাতে এদিন প্রায় দুর্গে পরিণত করা হয় ঢাকা শহর। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ১৯১টি প্লাটুনের জওয়ানকে ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় মোতায়েন করা হয়। মোতায়েন করা হয় সেনাও। নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে রাস্তায় নামায় সকাল থেকে কয়েকশো আওয়ামি লিগ কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়। সকাল থেকেই লিগের কার্যালয়গুলির সামনের রাস্তা দখল করে নেয় বিএনপি ও জামাত-ই-ইসলামি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেনা, আধাসেনার সঙ্গে রাস্তায় নেমেছিল ‘ছাত্র-জনতা’ও। তাদের হাতে বেধড়ক মার খেতে হয়েছে লিগের কর্মী-সমর্থকদের। মার থেকে বাদ যাননি মহিলা ও মুক্তিযোদ্ধারাও। ঢাকায় আওয়ামি লিগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখায় ‘ছাত্র-জনতা’ ও বিএনপি সমর্থকরা। বেলার দিকে সেখানে আওয়ামি লিগ কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের মারধর শুরু হয়। মাটিতে ফেলে পেটানো হয় অনেককে। ছিড়ে দেওয়া হয় জামাকাপড়। পরে তাঁদের পুলিসের হাতেও তুলে দেওয়া হয়। তবে এসবের পরেও বিকেলের দিকে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্নভাবে হলেও মিছিল করেন আওয়ামি লিগের সদস‌্যরা। এদিন নূর হোসেন চত্বর থেকে কিছুটা দূরেই পাল্টা জমায়েতের ডাক দেয় পড়ুয়াদের সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ও।
সম্পর্কিত সংবাদ