Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হুঁশিয়ারি বিএনপিরও, ঘরে বাইরে চাপে ইউনুস সরকার 

হুঁশিয়ারি বিএনপিরও, ঘরে বাইরে চাপে ইউনুস সরকার 
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ঢাকা: শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়তেই মহম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন’-এর নেতারা। কথা ছিল, বাংলাদেশে দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। চার মাস কেটে গেলেও কেউ কথা রাখেনি। নির্বাচন আয়োজনের কোনও নামগন্ধ নেই। তবে দায়িত্ব নিয়েই ইউনুস সরকার যে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা শুরু করেছে, তা একাধিক পদক্ষেপেই স্পষ্ট। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ‘জয় বাংলা’র জাতীয় স্লোগানের মর্যাদাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার সেই ইউনুসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঢেউ বাংলাদেশের অন্দরেই। ‘বিজয়ের মাস’ ডিসেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এহেন ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করল বিএনপি। খালেদা জিয়ার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে কোনওভাবেই ভুলে গেলে চলবে না। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘একাত্তরকে একটু পিছনে রাখার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটাও আরেকটি ষড়যন্ত্রের অংশ। দেশের মূল ইতিহাস থেকে জাতিকে দূরে সরিয়ে দেওয়া...। এই বিষয়টি নিয়ে সজাগ থাকতে হবে।’
Advertisement
শুধু সেখানেই থেমে থাকেননি বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মহম্মদ নাহিদ ইসলামের কড়া সমালোচনাও করেছেন। সম্প্রতি নাহিদ দাবি করেছিলেন, ইউনুস সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে রাজনৈতিক দলগুলি। সেই বক্তব্যের পাল্টা হুঁশিয়ারি শোনা গিয়েছে ফখরুলের গলায়। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলিকে বা রাজনীতিকে আপনাদের প্রতিপক্ষ বানাবেন না। সবাই আপনাদের সহযোগিতা করছে। আমি এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
হিন্দু নির্যাতন নিয়ে অভিযোগ উঠলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার এতদিন যুক্তি দিয়েছে, ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক কারণে হামলা হয়েছে। ইঙ্গিত স্পষ্ট, হাসিনার দল আওয়ামি লিগের সমর্থক হওয়ার কারণেই হিন্দুরা আন্দোলনের শিকার। যদিও আওয়ামি লিগের মূল বিরোধী বলে পরিচিত বিএনপি নেতা ফখরুলের দাবি, ‘গণতন্ত্র মানে এই নয় যে, আওয়ামি লিগ করলে তার গলা কেটে ফেলো আর বিএনপি করলে তার মুণ্ডচ্ছেদ করো। গণতন্ত্র হচ্ছে পরমত সহিষ্ণুতা। তোমার কথা বলার অধিকার আছে, আমার বিরুদ্ধেও কথা বলার অধিকার আছে। আমি সেটিকে রক্ষা করব, এটাই হল গণতন্ত্র।’  তাঁর মতে, গণতন্ত্র একটা সংস্কৃতি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলব, তা গণতন্ত্রের মাধ্যমেই শিখতে হবে।
শনিবার বাংলাদেশে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। মীরপুরে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান মহম্মদ ইউনুস ও রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহবুদ্দিন। রায়েরবাজারের স্মৃতিসৌধেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে এর মধ্যেও ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে শহিদ স্মরণের অনুষ্ঠান আয়োজনে বিধিনিষেধ জারির অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনেক জায়গায় শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যায়নি।
 
সম্পর্কিত সংবাদ