Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ফের ব্যাহত হাওড়া-সেক্টর ফাইভ মেট্রো

পুজোর মুখে ফের থমকাল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। বুধবারের মতো বৃহস্পতিবারেও উন্নত সিগন্যাল ব্যবস্থা আবার মুখ থুবড়ে পড়ল

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ফের ব্যাহত  হাওড়া-সেক্টর ফাইভ মেট্রো
  • ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: পুজোর মুখে ফের থমকাল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। বুধবারের মতো বৃহস্পতিবারেও উন্নত সিগন্যাল ব্যবস্থা আবার মুখ থুবড়ে পড়ল। যার জেরে সকালের ব্যস্ত সময়ে এক ঘণ্টা বন্ধ রইল এসপ্ল্যানেড থেকে শিয়ালদহ মেট্রো পথ। ফলস্বরূপ হাজার হাজার যাত্রী চরম হয়রানির শিকার হলেন। এদিন সকাল ১০টা ৪ মিনিট নাগাদ আচমকাই বিগড়ে যায় সিবিটিসি সিগন্যাল ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, সল্টলেকের কন্ট্রোল রুম থেকে গোটা রুটের মেট্রো চলাচল নিয়ন্ত্রিত হয়। এই ব্যবস্থায় ডেটা কমিউনিকেশনের মাধ্যমে পাওয়া সিগন্যালে আপ-ডাউনে মেট্রো ছোটে। গতদিনের মতো এদিনও ডেটা ফেল করে। অন্ধকার হয়ে যায় মেট্রোর স্বয়ক্রিয় সিগন্যাল প্রক্রিয়া। যার জেরে সোয়া ১০টার পর থেকে ম্যানুয়াল সিগন্যালে হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্ল্যানেড ও শিয়ালদহ থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ মধ্যে বিক্ষিপ্ত পরিষেবা চালু হয়। মেট্রো সূত্রের দাবি, সকাল ১১টা ৫ মিনিটে গোটা রুটে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হয়। ফের শুরু হয় যাত্রী পরিষেবা। 

Advertisement

এদিন সকাল প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হাওড়া ময়দান ও স্টেশন লাগোয়া মেট্রো প্ল্যাটফর্মগুলি যাত্রীদের থিকথিকে ভিড় চোখে পড়ে। এসি মেট্রোতে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর স্বস্তি কাটিয়ে অনেকেই বাসে বাদুর ঝোলা হয়ে গলদঘর্ম হন। পরপর দু’দিন ইস্ট-ওয়েস্ট রুটে মেট্রো ভোগান্তি নর্থ-সাউথ করিডোরের ধারাবাহিক যাত্রী ভোগান্তির কথা মনে করাচ্ছে যাত্রীদের। বুধবার সকালে প্রায় আড়াই ঘণ্টার মেট্রো বিভ্রাটের পর এদিন ঘণ্টা খানেকের বিপত্তি দক্ষিণেশ্বর রুটের বেহাল পরিষেবার ধারাবাহিকতার সঙ্গে মানানসই বলেই মনে করছেন বহু যাত্রী।
বুধবারের তিক্ত অভিজ্ঞতায় অনেকেই অবশ্য এদিন মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় অপেক্ষা করেননি। তড়িঘড়ি লাইন দিয়েছিলেন টিকিটের দাম ফেরত পাওয়ার লাইনে। খুব তাড়া থাকায় অনেকে টাকা ফেরত না নিয়েই ছুটেছেন ট্যাক্সি কিংবা ক্যাব ধরতে। ভদ্রেশ্বরের বাসিন্দা সোনালি গঙ্গোপাধ্যায়ের অফিস করুণাময়ীতে। তিনি বলেন, ‘এতদিন বালিতে নেমে শাটল ধরে আসতে হতো। গত ২২ আগস্ট সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলেছিল। কিন্তু ব্লু লাইনের মতো যেভাবে গ্রিন লাইনেও নিয়মিত পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে, তাতে মেট্রো যাত্রায় ভরসা হারাচ্ছি’। আরেক অফিস যাত্রী নিশান শর্মা বলেন, ‘আগে অফিস যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে অনেকটা সময় হাতে নিয়ে বের হতাম। মেট্রো থাকায় বাড়ি থেকে একটু দেরি করে বের হওয়ার অভ্যাস  হচ্ছিল। কিন্তু পরপর দুদিন চূড়ান্ত ভোগান্তি সইতে হল।’ তাঁর কথায়, ‘শিক্ষা নিলাম। এবার থেকে হাতে আগাম সময় নিয়েই বাড়ি থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরতে হবে। মেট্রো লাইনে জ্যাম না থাকলেও প্রযুক্তিগত জট ক্রমেই আতঙ্ক হয়ে উঠছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ