নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: শেষবার হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। তারপর কেটে গিয়েছে এক দশকের বেশি সময়। কিন্তু পুরভোট হয়নি। এনিয়ে একাধিকবার শাসক-বিরোধী তর্জার সাক্ষী থেকেছে বঙ্গবাসী। কিন্তু হাওড়ার বাসিন্দাদের কাছে নির্বাচিত পুরবোর্ড অধরাই থেকে গিয়েছে। অভিযোগ, সবটাই ঘটেছে রাজভবন ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সংশোধনী) বিল ২০২১’ আটকে রাখার কারণে। বিধানসভায় পাশ হওয়ার চার বছর পর বুধবার অবশেষে সেই বিলে সই করলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। তাই হাওড়া পুরসভা এলাকার বাসিন্দারা বুক বাঁধতে শুরু করেছেন নিজ নিজ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বেছে নেওয়ার আশায়।
২০১৫ সালে পার্শ্ববর্তী বালি পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ড মিলিয়ে দেওয়া হয় হাওড়া পুরসভার সঙ্গে। এর ফলে হাওড়া পুরসভার মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয় ৬৬। ২০২১ সালে ফের হাওড়া পুরসভা থেকে বালি পুরসভারে আলাদা করে রাজ্য। সেই মতো হাওড়া পুরসভা থেকে বেরিয়ে যায় বালির ১৬টি ওয়ার্ড। হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৬৬ থেকে কমিয়ে ফের ৫০ করতে বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের বারংবার আবেদন সত্ত্বেও সেই বিল চার বছর ফেলে রাখে রাজভবন। তখন একপ্রকার বাধ্য হয়ে হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্মূল্যায়ন (ডিলিমিটেশিন) করে পাকাপাকিভাবে ৬৬টি ওয়ার্ডে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। সেই কাজও শেষ। জারি হয়েছে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিও। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের এই বিলে সই কার্যত অর্থহীন বলেই মনে করছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। প্রশাসন সূত্রে খবর, সেক্ষেত্রে রাজ্যপালের স্বাক্ষরিত এই সংশোধনী বিল ‘রিপিল’ বা বাতিলের পথে হাঁটতে পারে রাজ্য। কারণ, এই সংশোধনী বিল অনুযায়ী হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা হাওয়ার কথা ৫০। আর এটা মেনে নিলে পুনরায় ডিলিমিটেশন ও রিজার্ভেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ার্ড সংখ্যা ফের ৫০-এ নামিয়ে আনতে হবে। তবে রাজ্য এই পথে হাঁটবে না বলেই সূত্রের খবর। ফলে দ্রুত নির্বাচনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই মত আধিকারিক থেকে আম জনতার। শৈলেন মান্না সরণির প্রবীণ বাসিন্দা জগদীশ সরকার যেমন বললেন, ‘দীর্ঘদিন হল, কাউন্সিলাররা প্রাক্তন হয়ে গিয়েছেন। ফলে তাঁদের কাছে গিয়ে পুর পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও সুরাহা মেলে না। দ্রুত নির্বাচন দরকার। আমরা আশাবাদী, এবার সেটা হবে।’ একই সুর শোনা গিয়েছে রামরাজাতলার বাসিন্দা অর্ধেন্দু মাইতির গলাতেও। তাঁর কথায়, ‘জঞ্জাল সাফাই, নিকাশিনালা সংস্কারের মতো জরুরি কাজগুলিও ঠিকমতো হয় না। জমা জলের ভোগান্তি পোহাতে হয় সারা বছর। ভোট হলে এর থেকে নিষ্কৃতি মিলতে পারে।’ এদিকে, এদিনই পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণির জন্য ‘কমিশন সংশোধনী বিল ২০১৮’ ছেড়েছে রাজভবন। পড়ে থাকা ২৩টি বিলের মধ্যে বিগত দু’দিনে সাতটি বিলে সই করেছেন রাজ্যপাল। রাজ্য বিধানসভায় অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ, ‘তিনি নিজেই প্রমাণ করলেন যে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ সব বিল ফেলে রেখেছিলেন। তাঁর উচিত বাকি বিলগুলিও ছেড়ে দেওয়া।’