Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তোলাবাজির জন্য এলাকা ভাগাভাগি নিয়ে বচসার জেরেই খুন হন শফিক, জেরায় স্বীকার হারুনের

তোলাবাজির জন্য এলাকার ভাগ নিয়ে গোলমালের জেরে খুন হন হাওড়ার পিলখানার প্রোমোটার শফিক খান। সিআইডি অফিসারদের জেরায় একথা স্বীকার করেছে খুনের ঘটনায় ধৃত মূল অভিযুক্ত আফগান যুবক হারুন।

তোলাবাজির জন্য এলাকা ভাগাভাগি নিয়ে বচসার জেরেই খুন হন শফিক, জেরায় স্বীকার হারুনের
  • ৭ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তোলাবাজির জন্য এলাকার ভাগ নিয়ে গোলমালের জেরে খুন হন হাওড়ার পিলখানার প্রোমোটার শফিক খান। সিআইডি অফিসারদের জেরায় একথা স্বীকার করেছে খুনের ঘটনায় ধৃত মূল অভিযুক্ত আফগান যুবক হারুন। জানা গিয়েছে, অবৈধ নির্মাণের দখল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শফিক ও হারুনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। ধৃত হারুন খান ও রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতকে দিল্লি থেকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার তাদের হাওড়া আদালতে তোলা হলে সিজেএম গৈরিক রায় দু’জনকে সাতদিনের সিআইডি হেপাজতে পাঠান।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লিতে জামা মসজিদের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হারুন ও রোহিতকে। খুনের মোটিভ কী, তা নিয়ে তদন্তকারীরা দু’জনকে জেরা করলে হারুন জানায়, পিলখানা এলাকায় একসময় শফিক ও সে এক গোষ্ঠীতেই ছিল। তাদের গুরু উত্তর হাওড়ার এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী। পিলখানা, ওড়িয়াপাড়া সহ উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় তারা অবৈধ নির্মাণকে নিয়ন্ত্রণ করত। তাদের অনুমতি ছাড়া কারও পক্ষে বাড়ি করা সম্ভব ছিল না। তোলাবাজিই ছিল তাদের আয়ের মূল উৎস। এক সময় শফিকের সন্দেহ হয়, অবৈধ নির্মাণ থেকে যে টাকা তোলা হয়, তার ভাগ সে ঠিকমতো পায় না। যে কারণে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। পরে শফিক জোট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে নতুন টিম তৈরি করে। দু’জনেই এলাকা ঠিক করে নেয়। সিদ্ধান্ত হয়, একে অপরের এলাকায় ঢুকবে না। তারপরেও গণ্ডি পেরিয়ে অন্যের এলাকায় গিয়ে তোলাবাজির অভিযোগ ওঠে পরস্পরের বিরুদ্ধে।  হারুন জেরায় জানিয়েছে, শফিক মনে করত, তার এলাকা ছোটো হওয়ায় ভাগ কম পাচ্ছে। এই নিয়ে গণ্ডগোল শুরু হয়। তা চরমে ওঠে ভোটবাগানে হারুনের এলাকায় শফিক ঢুকে পড়লে। তখন থেকেই শফিককে চিরতরে সরানোর ফন্দি আঁটে সে। সেক্ষেত্রে গোটা এলাকাই চলে আসবে তার নিয়ন্ত্রণে। একমাস আগেই শফিককে খুনের পরিকল্পনা করে হারুন। সেজন্য রোহিতের মাধ্যমে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নাইন এমএম পিস্তল কেনে সে। এর মাঝে একবার শফিককে খুনের চেষ্টাও চালানো হয়। কিন্তু অল্পের জন্য ফসকে যায়। শেষমেশ ২৫ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা করেই ডেকে পাঠিয়ে খুন করা হয় শফিককে। 
হারুনের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন থানায়, সেই তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে হাওড়া আদালতে সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক বলেন, দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের মোটিভ সহ আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। বিচারক সিআইডি হেপাজতের নির্দেশ দেন। হেপাজতে থাকা মহম্মদ ওয়াকিলের গোপন জবানবন্দির আরজি মঞ্জুর হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ