নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডুমুরজলা রিং রোডে ফাস্টফুডের স্টলগুলিতে অভিযান চালাল হাওড়া পুরসভা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্টেডিয়াম সংলগ্ন রিং রোডের দু’পাশে থাকা খাবারের স্টলগুলিতে আচমকা হানা দেন পুর আধিকারিকরা। খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে বিক্রেতাদের সচেতন করা হয়। একইসঙ্গে আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে ফুড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, এমন নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পুরসভার তরফে।
‘শহরের ফুসফুস’ বলে পরিচিত হাওড়ার রিং রোড প্রাতর্ভ্রমণকারীদের অন্যতম জায়গা। সন্ধ্যার পর এই জায়গায় ভিড় জমে ফাস্টফুডপ্রেমীদের। কাবাব, মোমো, রোল, বিরিয়ানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফিউশন খাবারের স্টল বসে রাস্তার ধারে। পুরসভা সূত্রে খবর, গত এক বছরে রিং রোডজুড়ে অন্তত ৫০-৬০টি অস্থায়ী খাবারের স্টল তৈরি হয়েছে। তবে স্টলের সংখ্যা বাড়লেও অধিকাংশেরই ফুড লাইসেন্স নেই বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। এমনকি, এই স্টলগুলি থেকে পুরসভার কোনো কর আদায় হয় না। ফলে এতদিন এই ব্যবসাগুলির উপর নজরদারি কতটা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাবার তৈরির পরিবেশ, মজুত খাবারের গুণমান, খাবার ঢেকে রাখা হয় কি না, এমনকি খাবারে ফুড কালার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এতদিন তেমন নজরদারি ছিল না বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার রাতে রিং রোডে আচমকা অভিযান চালান হাওড়া পুরসভার ডেপুটি কমিশনার (১) সুপ্রভাত চট্টোপাধ্যায় এবং সচিব অনুপম চক্রবর্তী। ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকরা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ওএসডি আশুতোষ কুণ্ডু। বিক্রেতাদের ফুড লাইসেন্স সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। পুরসভার দাবি, আপাতত এই অভিযান মূলত সচেতনতার উদ্দেশ্যেই। তবে পয়লা সেপ্টেম্বরের পর ফুড লাইসেন্স রাখা বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ডুমুরজলা রিং রোডের অস্থায়ী খাবারের স্টলগুলিতে এবার থেকে পুরসভার নজরদারি আরও জোরদার হতে চলেছে।