


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভূমিধসে প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল উত্তর হাওড়ার অন্যতম মূল নিকাশি। দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করতে কেএমডিএ’কে নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কাজ শুরুই করতে পারেনি কেএমডিএ। ফলে উত্তর হাওড়ার তিনটি ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলে ডুবেছে। হাইড্রেন উপচে দূষিত জল ঢুকছে গৃহস্থ বাড়িতে। নোংরা জল মিশছে পানীয় জলের সঙ্গে। এই ঘটনায় ভয়ঙ্কর ক্ষোভ ওই এলাকায়। মঙ্গলবার বামনগাছিতে পথ অবরোধ করেন স্থানীয় মহিলারা। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে যান উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীকে। বিধায়ক পর্যন্ত কেএমডিএ নিকাশির কাজ কেন শুরু করছে না সে প্রশ্ন তোলেন।
হাওড়ায় বেলগাছিয়া এলাকা সংলগ্ন সাত, আট এবং নয় নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি পাড়া বর্তমানে জলমগ্ন। সর্বত্র থই থই করছে ড্রেনের কালচে নোংরা জল। পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ছে। ঘরে ঘরে বাড়ছে চর্মরোগ ও পেটের রোগ। দুর্বিষহ গরমে পরিস্থিতি ভয়াবহ। ২০ মার্চ বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ভয়ঙ্কর ভূমিধস নামে। তার ফলে পানীয় জল সরবরাহকারী মূল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ধসে যায় উত্তর হাওড়ার অন্যতম মূল ড্রেনেজ সিস্টেমও। ঘটনার দু’দিন পর পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। স্টিল পাইলিং করে নতুনভাবে ড্রেনেজের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন কেএমডিএ’কে। কিন্তু ১০ দিন কেটে গেলেও কাজ শুরু করেনি কেএমডিএ বলে অভিযোগ। মূল নিকাশির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তর হাওড়ার তিনটি ওয়ার্ডের হাইড্রেন থেকে নোংরা জল ঘুরপথে ঢুকে ভাসিয়ে দিচ্ছে গোটা এলাকা। কয়েকটি পাম্প চালিয়ে বি রোড এলাকার কিছু অংশের জল নামাতে পেরেছে হাওড়া পুরসভা। তবে সবথেকে দুঃসহ অবস্থা সি রোড, বড়বাগান, বিবেকনগরে। মঙ্গলবার সেখানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, বাড়িগুলির শোওয়ার ঘর, রান্নাঘরে নর্দমার কুচকুচে কালো জল থইথই করছে। ফলে বিক্ষোভের পথে হেঁটে পথ অবরোধ শুরু করেন মহিলারা।
রুম্পা দাস, কেয়া ঘোষ, আনন্দ দাস নামে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা যাচ্ছে না। পানীয় জলের সঙ্গে ড্রেনের জল মিশে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে ডায়েরিয়া হচ্ছে।’ তাঁদের অভিযোগ, সারাবছর হাইড্রেন আবর্জনায় ভরে থাকে। মাসে মাত্র একবার ড্রেন সাফ করার কাজ হয়। তাও উপর উপর ভেসে থাকা প্লাস্টিক তুলে নিয়েই দায়িত্ব সেরে ফেলেন পুরসভার কর্মীরা। ভাগাড়ে ভূমিধসের কারণে পরিস্থিতি তাই আরও ভয়াবহ হয়ে গিয়েছে। এদিন পথ অবরোধের পর উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘পুরমন্ত্রী কেএমডিএ’কে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মাঝে মধ্যে এখানে ওদের ইঞ্জিনিয়াররা আসেন। কিন্তু কাজ কিছুই শুরু হয়নি। সে কারণেই মানুষ ভুগছেন। ভূমিধসের কারণে ড্রেনেজ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা মেরামত করার মত পরিকাঠামো হাওড়া পুরসভার নেই। পাম্প চালিয়ে কিছু জায়গায় জল নামানো হয়েছে। এটা স্থায়ী সমাধান নয়। আমরা পলিসি ব্রেক করতে পারি না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দায়িত্ব নিতে হবে।’ এরপর পুরমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে স্থানীয়দের দ্রুত সুরাহার আশ্বাস দেন বিধায়ক।-নিজস্ব চিত্র