নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দীপাবলি মানে আলোর উৎসব। কিন্তু এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শব্দবাজির খেলা। পুলিশি কড়াকড়িতে গত বছর শব্দবাজির ব্যবহার কমেছিল অনেকটাই। কিন্তু এবছর শহর কলকাতার পাশাপাশি হাওড়াতেও কালীপুজোয় ফিরল শব্দতাণ্ডব। পাশাপাশি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেলাগাম দাপাদাপি চলল হেলমেটবিহীন বাইক আরোহীদেরও। পাশাপাশি সন্ধ্যার পরেই প্রসিদ্ধ কালীমন্দিরগুলিতে পুজো দিতে ভিড় জমিয়েছিলেন ভক্তরা।
শব্দবাজি নিয়ে ধরপাকড়ের বদলে এবছর সচেতনতা প্রচারে জোর দিয়েছিল হাওড়া সিটি পুলিশ। রাস্তায় রাস্তায় নজরদারিতে বাড়তি পুলিশকর্মী মোতায়েনও রাখা হয়েছিল। কিন্তু যাবতীয় বিধিনিষেধকে উড়িয়ে কালীপুজোর রাতে শব্দবাজির তাণ্ডব চলল। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাওড়া ময়দান, সালকিয়া, পঞ্চাননতলা, কাসুন্দিয়া, বেলেপোল, সাঁতরাগাছি, রামরাজাতলা– সর্বত্রই চলেছে শব্দবাজির খেলা। আবাসনগুলিতেও দেদার ফাটানো হয়েছে শব্দবাজি। রাত বারোটার পরেও থামেনি চকলেট বোম, লঙ্কা বোমের উল্লাস।
শুধু তাই নয়, এক বাইকে তিন সওয়ারি মিলে চকলেট বোম ফাটাতে ফাটাতে রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে যেতেও দেখা গিয়েছে নবান্ন চত্বরের ফ্লাইওভারগুলিতে। আতঙ্কে সিঁটিয়ে ছিলেন পথচারীরা। রাত আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত সবুজ আতশবাজি পোড়ানোর অনুমতি থাকলেও সেই নিয়ম মানার চেষ্টাটুকুও ছিল না কোথাও। মূলত হাওড়া, শিবপুর, চ্যাটার্জিহাট ও জগাছা থানা এলাকা জুড়ে সব থেকে বেশি শব্দবাজি ফাটানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
গত কয়েক বছরে এমন শব্দতাণ্ডব শোনা যায়নি বলে দাবি এইসব এলাকার বাসিন্দাদের। ইছাপুর জলট্যাঙ্ক এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী অসুস্থ। শব্দবাজির কারণে কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়। দু’জনেই জেগে রাত কাটিয়েছি। বাড়ির পোষ্যদের নিয়েও সমস্যায় পড়েন অনেকে। যদিও লাগামহীন শব্দবাজি নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে কেউ মন্তব্য করেননি। একই সঙ্গে হেলমেটবিহীন বাইক আরোহীদের দাপাদাপিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে, কালীপুজোর রাতে হাওড়ার মন্দিরগুলোতে দেখা গিয়েছে ভক্তদের ঢল। সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, হাজার হাত কালী মন্দির, জহুরা কালীবাড়িতে মায়ের দর্শন পেতে দীর্ঘ লাইনে শামিল হয় সাধারণ মানুষ। উপচে পড়া ভিড় দেখা গিয়েছে বেলুড় মঠে। বারোয়ারি মণ্ডপগুলিতেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। আকাশে আতশবাজির খেলা।-নিজস্ব চিত্র