শুরুর কথা: কিডনি হল আমাদের শরীরের একটি ফিল্টার। রক্তকে পরিশুদ্ধ করে এবং বর্জ্য পদার্থ বা উপাদানগুলিকে পৃথক করে। তাই এই অঙ্গে সমস্যা দেখা দিলে তা সহজে মেটে না। কিছুক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও। তাহলে নিস্তারের উপায় কী? এক্ষেত্রে প্রাচীন একটি প্রবাদ কার্যকরী। সেটি হল প্রিভেনশন বেটার দ্যান কিওর। অর্থাৎ প্রতিরোধ নিরাময়ের থেকে ভালো। কিডনির সমস্যার জাঁকিয়ে বসার আগেই যদি একে চিহ্নিত করা যায়, তাহলে কিন্তু সহজেই নিরাময় মেলে। এক্ষেত্রে স্ক্রিনিং শুরু করতে হবে প্রসূতি মা ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তান থেকেই। এবার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক।
বাঁচবে প্রজন্ম: আমাদের দেশে লোবার্থ ওয়েট এক বড় সমস্যা। এজন্য একটা কিডনির সমস্যা হয়। এর নাম অলিগো মেগা নেফ্রোনিয়া। এতে নেফ্রনের সংখ্যা কম থাকে। কিন্তু, আকারে বড় হয়। এই নিয়ে শিশু বড় হলে তার রক্তচাপ ও কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এধরনের সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে ভালো উপায় হল প্রসূতি মায়ের পুষ্টি ঠিক রাখা। অন্তঃস্বত্তা হওয়ার পর প্রথম দু’মাস সঠিক পুষ্টিগুণ মেনে খাওয়া-দাওয়া করলে বাচ্চার জন্মের সময় ওজন ভালো হয়। প্রতিটি হবু মা যদি এই বিষয়টি মাথায় রাখে তাহলে গোটা সমাজে কিডনি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এছাড়া, অনেক সময় বাচ্চার জন্মগত কিছু সমস্যা থাকে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে, প্রোস্টেরিয়র ইউরেথাল ভালভ। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের লিঙ্গের পিছনে একটি পর্দা তৈরি হয়ে যায়। ফলে প্রস্রাব বেরতে সমস্যা হয়। ব্যথা করে। শিশুদের ক্ষেত্রে আরও একটি সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। তা হল, শিশুটি প্রস্রাব করলে তা বাইরে না বেরিয়ে কিডনির দিকে চলে যায়। ফলে অঙ্গটিতে ক্ষতি হতে পারে। এরকম আরও বহু সমস্যা রয়েছে, যা নবজাতকদের মধ্যে প্রায়শই দেখা যায়। তাই জন্মানোর পরই যদি কিছু রুটিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হল, তাহলে একটি প্রজন্ম রক্ষা পেতে পারে। এজন্যই প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব অর্থাৎ হাসপাতালে শিশুর জন্ম দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ, এখানে জন্মের পরই বেশ কিছু টেস্ট হয়। তাতে সমস্যা ধরা পড়ে। যা শুধু কিডনি নয়, অন্যান্য বহু জটিল, কঠিন রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী।
ব্যথার ওষুধে বিষ: ব্যথা কমাতে মুড়িমুড়কির মতো পেইন কিলার ওষুধ খেতে থাকেন। এতে সাময়িকভাবে ব্যথা হয়তো কমে। কিন্তু, আরও বড় সমস্যা ডেকে আনেন। কারণ, ওই ওষুধগুলো কিডনির সমস্যা তৈরি করে। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।
শেষ কথা: ফল, শাকসব্জি, গোটা শষ্য খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। এগুলি কিডনি-ফ্রেন্ডলি ডায়েটের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়া, সোডিয়াম, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি থাকা পানীয়, বাড়তি প্রোটিন বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত রক্তচাপ, ডায়বেটিস কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই এগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেইসঙ্গে নিয়মিত শরীর চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। আর অতি অবশ্যই প্রচুর জল খেতে হবে। ধূমপান চলবে না। মদ্যপানও কমানো দরকার। সবচেয়ে বড় কথা হল, আপাতত কিডনির সমস্যা নেই মানে আর হবে না, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাই নিয়মিতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা (স্ক্রিনিং) দরকার। অতিরিক্ত পেইন কিলার, অ্যান্টিবায়োটিক প্রচুর ক্ষতি করে দেয়। শরীরের ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাহলেই এই মারণ ব্যাধীকে বশে আনা যাবে।