পরামর্শে পিজি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ সুগত দাশগুপ্ত।
পরামর্শে পিজি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ সুগত দাশগুপ্ত।
শুটিং-এর আগে জেনে নিন
রেড জোন: শুটিং বা কোনো কাজের আগে স্থানীয় পুলিশ ও নুলিয়ার সাহায্যে রেড জোন ও চোরাবালি চিহ্নিত করতে হবে।
জোয়ার-ভাটা সচেতনতা: জোয়ার-ভাটার সন্ধিক্ষণে সমুদ্রে নামা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
নিরাপত্তা কর্মী: উপকূলের ৫০ মিটারের মধ্যে কাজের জন্য সার্টিফাইড লাইফগার্ড বা ওয়াটার সেফটি অফিসার থাকা বাধ্যতামূলক।
বাডি সিস্টেম: একা জলে নামা যাবে না। জরুরি অবস্থায় সাহায্যের জন্য প্রত্যেকের ‘সঙ্গী’ থাকা আবশ্যক।
সুরক্ষা সরঞ্জাম: উজ্জ্বল রঙের নির্দেশিকা দিয়ে ‘সেফ জোন’ চিহ্নিত করা এবং পোশাকের নীচে লাইফ-বেল্ট বা জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক।
জরুরি চিকিৎসা ও সিপিআর: কাজের দলের সদস্যদের বেসিক লাইফ সাপোর্ট প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। উদ্ধার করার পর প্রয়োজন হলে দ্রুত সিপিআর দিতে হবে। টিমের কাছে অ্যাম্বু ব্যাগ, ডিফিব্রিলেটর, আইভি ফ্লুইড ও প্রয়োজনীয় ইঞ্জেকশন রাখতে হবে।
ক্রিটিক্যাল কেয়ার: নোনা জল ফুসফুসে ঢুকলে পরে শ্বাসকষ্ট বা সেকেন্ডারি পালমোনারি ইডিমা হতে পারে। তাই রোগীকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আইসিইউ পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।
সরকারি ব্যবস্থা: দীঘা বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিপদে পড়লে নিকটবর্তী স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে যোগাযোগ করতে হবে। রাজ্যের অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা যেতে পারে।
জলে ডোবা রোগীর
প্রাথমিক চিকিত্সা
প্রথমে কাঁধে ঝাঁকুনি দিয়ে ডাকুন। সাড়া না পেলে গলায় ক্যারোটিড ধমনীর উপর আঙুল রেখে পালস দেখুন। স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে কি না দেখুন। রোগী সাড়া না দিলেই, পালস না অনুভব করতে পারলেই, ধরে নিন রোগীর ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়েছে।
তৎক্ষণাৎ প্রথম কাজ সাহায্যের জন্য চিৎকার করা এবং একদম নিকটবর্তী মেডিকেল, প্যারামেডিকেল টিমকে ফোন করা। তারপর সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর চালু করা। সিপিআর-এর প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে চেস্ট কম্প্রেশন। বৈজ্ঞানিকভাবে বুকে চাপ দেওয়া। এলোপাথাড়ি দিলে চলবে না, এর জন্য প্রত্যেকের একটু প্রশিক্ষণ দরকার। প্রশিক্ষিত না হলে কোনো সফরের আগে প্রত্যেকে ইউটিউব থেকেও শিখে নিতে পারেন। সব এখন সহজলভ্য।
কীভাবে চাপ: সাধারণত বুকে দুই হাতের আঙুল জোড়া করে হাতের তালু দিয়ে চাপ দিতে হয়।
কোথায় চাপ: বুকের মাঝখানের স্টারনাম হাড়ের নীচের দিকে।
কতটা নামবে বুক: মিনিমাম ২ ইঞ্চি।
মিনিটে কতবার চাপ: ১০০-১২০ (অর্থাৎ মোটামুটিভাবে ১ সেকেন্ডে দুই বার)। ৩০ বার এরকম চেস্ট কম্প্রেশন দেওয়ার পর মুখে মুখ লাগিয়ে, রোগীর মুখের উপর রুমাল দিয়ে তার ওপর আপনার মুখ লাগিয়ে ২ বার শ্বাস প্রদান করুন। একে বলে রেসকিউ ব্রেথ। দেখুন আপনার দেওয়া শ্বাসে রোগীর বুক ওপরে উঠছে কি না। দু’টি শ্বাস দেওয়ার পরেই সঙ্গে সঙ্গে আবার চেস্ট কম্প্রেশন শুরু করুন। আবার ৩০ বার, তারপরে আবার ২ বার শ্বাস। অর্থাৎ ৩০:২।
মনে রাখবেন, এই প্রণালী কিন্তু একজনকে ক্লান্ত করতে পারে। কাজেই পারলে অবশ্যই দ্বিতীয়জন রোগীর পাশে চলে যাবেন ক্রমান্বয়ে নিজেদের দায়িত্ব বদল করে চেস্ট কম্প্রেশন দিতে।
রেসকিউ ব্রেথ দিতে না পারলে বা একদমই না জানলে, শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে নজর না দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন চেস্ট কম্প্রেশন চালিয়ে যান। যতজন পারেন, একজনের পর একজন সেই কাজে হাত লাগান। কারণ একজন ৩০ বারের পর ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন।
কাজেই মনে রাখবেন, শ্বাস প্রশ্বাসের পিছনে সময় নষ্ট না করে, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জল বের করার বৃথা চেষ্টা না করে, শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র সঠিক চেস্ট কম্প্রেশন দেওয়াই প্রাণ বাঁচানোর একমাত্র এবং মূল উপায়। মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস প্রদান করতে পারলে ভালো, না পারলে কোনো ক্ষতি নেই। চেস্ট কম্প্রেশনই আসল। মেডিকেল সরঞ্জাম নিয়ে সাহায্যকারী দল এসে পৌঁছানো পর্যন্ত এই পদ্ধতিই নিরবচ্ছিন্ন ভাবে চালিয়ে যেতে হবে। তাই নিকটেই একটি সরঞ্জাম যুক্ত প্যারামেডিকেল বা মেডিকেল টিম থাকতেই হবে।
মূল কথা: শ্বাস প্রশ্বাসের দিকে নজরই না দিয়ে রোগী সাড়া না দিলেই, চেস্ট কম্প্রেশনই মূল এবং রোগীকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়।