সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: নিঝুম রাতের স্তব্ধতা ভেঙে শুরু হয়েছে দিনের ব্যস্ততা। সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের কারখানায় শ্রমিকরা ততক্ষণে একে একে কাজে যোগ দিয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ এক লহমায় বদলে গেল ছবিটা। বিধায়ক কারখানার দোতলার ঘরে শুয়েছিলেন। সেখানে জ্বলতে থাকে অগুন। তিনি দগ্ধ হন। জঙ্গিপুরের রাজনীতি তো বটেই, পুরো রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে এখন একই উৎকণ্ঠার সুর—কেমন আছেন বাইরন বিশ্বাস? মোড়ের মাথা থেকে শুরু করে চায়ের দোকান সর্বত্রই রবিবার আলোচনার একটাই কেন্দ্রবিন্দু বিধায়কের বাড়িতে ঘটা সেই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড। কীভাবে তিনি অগ্নিদগ্ধ হলেন? বিধায়ক কী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন নাকি কোনো দুর্ঘটনা থেকে লাগে আগুন। তবে জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, শর্ট সার্কিট থেকে এসিতে আগুন লাগে। তা থেকেই বাইরন অগ্নিদগ্ধ হন।
বিধায়কের ভাই মিল্টন বিশ্বাস বলেন, দাদা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। শর্টসার্কিটের ফলে ঘরের এসি বাস্ট করেই এই আগুন লাগে। বর্তমানে দাদার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি কলকাতার হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছেন। তাঁর সুস্থতা কামনায় প্রহর গুনছে অগণিত অনুরাগী।
ঘটনাটি ঘটেছিল শনিবার সকালে। বাড়িতে নিজের ঘরে তখন নিবিড় ঘুমে মগ্ন ছিলেন বাইরন। আচমকাই ঘরের এয়ার কন্ডিশনার যন্ত্রাংশে ঘটে তীব্র বিস্ফোরণ। নিমেষের মধ্যে লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় আস্ত ঘরটিকে। অগ্নিদগ্ধ হন বিধায়ক। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিধায়কের অনুগামী থেকে সাধারণ মানুষ উদ্বেগের প্রহর গুনতে শুরু করে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে প্রত্যেকেই এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই শনিবার সন্ধ্যায় বিধায়কের বাসভবনে পৌঁছান জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার সুরিন্দার সিং। প্রাথমিক পরিদর্শনের পর তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, বিধায়কের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তিনি চিকিৎসকদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
রবিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তড়িঘড়ি বিধায়ককে কলকাতার একটি প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরিবার ও চিকিৎসকদের সূত্রে খবর, বাইরন বিশ্বাসের শরীরে বেশকিছু জটিল চিকিৎসাগত বিষয় রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাঁর শরীরের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের অভিমত, এই সমস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে জখম অত্যন্ত সেন্সেটিভ। যে কোনো মুহূর্তে তা জটিল রূপ নিতে পারে। সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা এড়াতেই এই স্থানান্তর।