


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১২ বছর পর ফের কীভাবে চালু হল অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম)? এব্যাপারে সিবিএসইর কাছে রীতিমতো জবাবদিহি চাইতে পারে শিক্ষামন্ত্রক। এক্ষেত্রে স্ক্যানারে থাকছে মন্ত্রকের ভূমিকাও। চলতি বছরে সিবিএসই দ্বাদশের বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক চরমে উঠেছে।
বিগত কয়েকদিন ধরে অবশ্য অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতিকে কার্যত ক্লিনচিট দিয়ে চলেছে কেন্দ্র। সিবিএসইর পক্ষ থেকে তো বটেই। এমনকি শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকেও একাধিকবার দাবি করা হয়েছে, ওএসএম পদ্ধতিতে মূল্যায়ন ব্যবস্থা ‘ফুলপ্রুফ’। অর্থাৎ, অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা কার্যত ত্রুটিমুক্ত। রবিবার খোদ কেন্দ্রের স্কুল শিক্ষাদপ্তরের সচিব এবিষয়ে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আগামী বছর থেকে সিবিএসইর মূল্যায়নে এই অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে মোদি সরকার। ২০১৪ সালে প্রথম পরীক্ষার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা কার্যকর করেছিল সিবিএসই। কিন্তু সেইসময় এক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত গোলযোগ এবং বিভ্রান্তির অভিযোগ ওঠে। ফলে পরবর্তী বছর থেকে আর ওএসএম পদ্ধতি চালু করার ব্যাপারে পদক্ষেপ করেনি সিবিএসই কিংবা শিক্ষামন্ত্রক। ১২ বছর পরে ফের তা চালু করা হয়েছে ২০২৬ সালে।
যদিও সিবিএসইর যুক্তি, ২০১৪ সালে বহু স্কুলেই ন্যূনতম ডিজিটাল পরিকাঠামো ছিল না। এর ফলে অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থায় পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়নে সমস্যায় পড়তে হয় পরীক্ষকদের। কিন্তু ১২ বছর পরে সেই সমস্যা আর নেই। ন্যূনতম ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রত্যেক স্কুল এবং পরীক্ষকদের কাছেই মজুত রয়েছে। তবে এরপরেও কি সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে এই বিশেষ অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি? শিক্ষামন্ত্রকেরই পরিসংখ্যান বলছে, মোট ১৩ হাজার ৫৮৩টি উত্তরপত্র ওএসএম পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করাই যায়নি। তা ‘ম্যানুয়ালি’ দেখতে হয়েছে। অর্থাৎ, পুরোপুরিভাবে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি যে এটি নয়, তা শিক্ষামন্ত্রকের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট হয়েছে। এমনই মনে করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। এমন প্রেক্ষাপটে তাই পুরো মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে আবারও নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে কেন্দ্রকে।